আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কৃষ্ণসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নোভোরোসিস্ক বন্দরে ইউক্রেনের এক সুপরিকল্পিত হামলায় রাশিয়ার নৌবহরের অন্তত চারটি শক্তিশালী রণতরী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) চালানো এই অভিযানে তিনজন রাশিয়ান নাবিক নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, জানিয়েছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ)।
হামলার সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে রাশিয়ার আধুনিক ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল এসেন’-এর ওপর। এসবিইউ জানায়, জাহাজটির মাঝামাঝি অংশে সরাসরি আঘাত লাগায় এর টিকে-২৫ ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, রাডার ও গ্রেনেড লঞ্চার অকেজো হয়ে গেছে। ফলে জাহাজটি আর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারবে না।
‘অ্যাডমিরাল এসেন’ ছাড়াও হামলায় রাশিয়ার মাইনসুইপার ‘ভ্যালেনটাইন পিকুলন’, অ্যান্টি-সাবমেরিন জাহাজ ‘ইয়েসেক’ ও ‘কাশিমভ’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব নিখুঁত সমন্বিত আক্রমণের কারণে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহর এখন নেতৃত্ব ও কারিগরি সংকটের মুখে পড়েছে, বিশেষ করে ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে রাশিয়ার হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
হামলা কেবল সামরিক জাহাজে সীমাবদ্ধ হয়নি; নোভোরোসিস্কের বড় তেল টার্মিনালও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। টার্মিনালের সাতটি লোডিং বার্থের মধ্যে ছয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি একটি গাইডেন্স রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।
নোভোরোসিস্ক উপসাগরকে রাশিয়া বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সুরক্ষিত মনে করলেও, ইউক্রেনের ড্রোন ও সামরিক ইউনিটগুলো সেই নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে বন্দরের ভিতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। হামলার পর ‘অ্যাডমিরাল এসেন’-এ ভয়াবহ আগুন ধরে যায়, যা নেভাতে রাশিয়ান নৌবাহিনী প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় ব্যয় করে।
ইউক্রেনের এই অভিযানের ফলে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে রাশিয়ার নৌসামরিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি