আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ তথ্য জানিয়েছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তেহরানের নিলুফার স্কয়ার এলাকায় অবস্থিত শহীদ হামেদানি স্কুল হামলার আগে ও পরে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার দৃশ্য এতে দেখা যায়। তবে হামলার বিস্তারিত পরিস্থিতি বা হতাহতের সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি।যদি এই তথ্য নিশ্চিত হয়, তবে চলমান যুদ্ধে ইরানে আঘাত হানা চতুর্থ স্কুল এটি।
মিনাবে স্কুলে ভয়াবহ হামলা
যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি কন্যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৬০ শিক্ষার্থী ও পাঁচজন স্কুলকর্মী নিহত হন। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের হতাহতের তথ্য উল্লেখ করেছেন।
তবে ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ কিছু ওয়েবসাইট দাবি করেছিল, ওই বিদ্যালয়টি নাকি ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি ঘাঁটির অংশ ছিল।
কিন্তু সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ডিজিটাল অনুসন্ধানী ইউনিটের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অন্তত এক দশক ধরে স্কুলটি পাশের সামরিক স্থাপনা থেকে আলাদা ছিল। এতে হামলার গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি তদন্ত করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে,যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টার্ক। তিনি বলেছেন, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।
আরও দুই স্কুলে হামলার অভিযোগ
ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, বৃহস্পতিবার তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পারন্দ শহরের দুটি স্কুলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে একটি শ্রেণিকক্ষ ধ্বংস হয় এবং আশপাশের কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইরানে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত ১ হাজার ৩০০ জনের মধ্যে অন্তত ১৮১ জনই শিশু।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো স্কুলে ইচ্ছাকৃত হামলা প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ যুদ্ধ ইতিহাসে বেসামরিক হতাহতের সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি