আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে অষ্টম দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার ভোরে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র বোমা হামলার অভিযান শুরু হতে পারে। ইতোমধ্যে এই সংঘাতে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছে এবং প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তারা তেহরানে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে “বিস্তৃত পরিসরের হামলা” শুরু করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি তেহরান থেকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর আট দিন ধরে ইরানের রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চলছে।
তিনি বলেন, মধ্যরাতের পর থেকেই একের পর এক হামলা হয়েছে। রাজধানীর অন্যতম প্রধান বিমানবন্দর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং আশপাশের এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সামরিক ঘাঁটি বা রাজনৈতিক স্থাপনা নয়, অনেক জায়গায় আবাসিক এলাকা, স্কুল ও হাসপাতালও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাইদ ইরাভানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বেসামরিক এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।
অন্যদিকে যুদ্ধের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের জন্য নতুন করে ১৫১ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ট্রাম্প আগেই বলেছেন, ইরান নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তিনি কোনো আলোচনায় বসবেন না।
এর জবাবে ইরানের জাতিসংঘ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশটি আত্মরক্ষার জন্য “প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ” নেবে।
এদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে এবং রাজধানী তেল আবিবে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ইরান থেকে ছোড়া অন্তত পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরের শহর রামাল্লা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানান, এসব হামলার কারণে রাতভর লাখো ইসরায়েলিকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি জনগণের ওপর চাপ বাড়াতে ইরান ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কৌশল নিচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি