আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি শহর দখলের পরিকল্পনা করছে ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এ পরিকল্পনায় ইসরায়েল তাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়,ইসরায়েল গত প্রায় এক বছর ধরে ইরানি কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ বিমান হামলার অংশ হিসেবে ইসরায়েল পশ্চিম ইরানের কিছু এলাকায় বোমাবর্ষণ করছে, যা সীমান্তে সম্ভাব্য কুর্দি অভিযানের সহায়ক হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রয়টার্সকে বলেন, ইরানি কুর্দি যোদ্ধারা যদি সীমান্ত পেরিয়ে অভিযান শুরু করে, তাহলে তা “চমৎকার” হবে।
সীমান্ত শহর দখলের পরিকল্পনা
সূত্রগুলোর দাবি, কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য হবে ইরান সীমান্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করা। এর মধ্যে ওশনভিহ ও পিরানশাহর শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি কুর্দি সূত্র জানায়, সীমান্তের ইরাকি পাশে হাজার হাজার যোদ্ধা জড়ো হচ্ছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা অভিযান শুরু করতে পারে। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন কুর্দি গোষ্ঠীর মিলিত শক্তি প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার যোদ্ধা হতে পারে। তাদের কাছে মূলত হালকা অস্ত্র রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহায়তা পেলে তারা সীমান্ত এলাকায় ইরানের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
কয়েকটি কুর্দি সংগঠনের জোট
গত মাসের শেষ দিকে পাঁচটি ইরানি বিরোধী কুর্দি গোষ্ঠী একটি জোট গঠন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজাক), ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান (পিকেআই) এবং কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে)। এসব সংগঠন অতীতে ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে জড়িত ছিল এবং বর্তমানে ইরাকের কুর্দি অঞ্চলে তাদের যোদ্ধা রয়েছে।
তবে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে জড়িত হওয়ার পরিকল্পনা করছে না।
লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে তথ্য দিচ্ছে কুর্দিরা
তিনটি সূত্রের দাবি, ইরানের ভেতরে থাকা কুর্দিরা সীমান্ত এলাকার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরবরাহ করছে, যা চলমান বিমান হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইসরায়েলি বিশ্লেষক জোনাথন স্প্যায়ার বলেন, ইসরায়েল বিভিন্ন উপায়ে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে চাইছে।তবে সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও ইরান বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোভিচ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কুর্দি বিদ্রোহের পক্ষে ইরাক ও ইরানের অধিকাংশ কুর্দির সমর্থন নেই। তার মতে, “অনেকে এখন অপেক্ষা করছে— ইরানের সরকার টিকে থাকে কি না।”
আঞ্চলিক উদ্বেগ
তুরস্ক ও ইরাক, দুই দেশই কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে সংবেদনশীল। ফলে তারা ইরানে সম্ভাব্য কোনো বিদ্রোহকে সমর্থন দিতে অনিচ্ছুক বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কুর্দি গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগ বজায় রেখেছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে তারা কুর্দিদের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে একটি সম্ভাব্য প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
অন্যদিকে কুর্দি নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করেও তারা অতীতে যেমন বিপাকে পড়েছিল, বিশেষ করে সিরিয়ার উত্তরে তেমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো অভিযানের আগে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে।
কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে একটি ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে ইরানে আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা, যা অনেকটা Iraqi Kurdistan–এর মডেলের মতো।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি