আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন গত সপ্তাহে চলা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের ওপর চালানো হামলার জন্য। তবে তিনি শর্ত দিয়ে বলেছেন, তেহরান কেবল তখনই হামলা চালাবে যদি আগে তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়।
রাষ্ট্র টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, আমি নিজে এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইছি, যেগুলো আমাদের হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আক্রমণ না আসা পর্যন্ত আর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। শত্রুদের উচিত তাদের ইচ্ছা ইরানের জনগণকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার চেষ্টা কবর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে এক সমন্বিত বিমান হামলা চালায়, যা তেহরানসহ বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার নিহত হন। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে, বিশেষ করে দুবাই, আবুধাবি, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন-এ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। হামলায় দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর কাছে চারজন আহত হয়।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দেশ লক্ষ্য করে ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪টি ড্রোন চালানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি আল-উদেইদ কাতারি ঘাঁটিতে আঘাত হানে। একইভাবে, ইরানি হামলা সৌদি আরামকো তেলক্ষেত্রেও আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে, যদিও তেহরান বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ভুল হিসাব বা ভুল গণনা এড়িয়ে চলতে হবে। সৌদি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং প্রধান তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে পুনরায় হামলা প্রতিহত করেছে।
এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে এবং ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত সঙ্কট তীব্র হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি