আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান অসিম মুনির শনিবার সৌদি আরবে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী
খালিদ বিন সালমান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে ইরানের হামলার ফলে অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা গুরুতর হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে হামলা ঠেকাতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে গত বছর স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যৌথ পদক্ষেপের বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, উসকানিবিহীন আগ্রাসন আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সুযোগ সংকুচিত করে। দুই পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে ইরান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেবে এবং ভুল সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলবে।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (আগে টুইটার)-এ পোস্ট করে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করে।
পাকিস্তান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ধর্মীয় বন্ধনের ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। গত বছর রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কারণে সৌদি আরবে আরও বড় ধরনের ইরানি হামলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সৌদি আরবকে ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প তেল সরবরাহ পথ দেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছে, যাতে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ চেইন সচল রাখা যায়।-ডন
রিপোর্টার্স২৪/এসসি