আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়া এবং শেয়ারবাজারে ধস—সব মিলিয়ে সপ্তাহজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ ও পাল্টা হামলা
মার্চের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক স্থাপনা ও ক্ষমতাকাঠামো। রাজধানী তেহরান ছাড়াও ইসফাহান, কোম, কারা ও কেরমানশাহ শহরে হামলার খবর পাওয়া যায়।
এর জবাবে ইরান পারস্য উপসাগর অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক, কাতার–সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র স্থাপনা।
ইরানের জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আমির-সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৩০০–এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যু
যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)
এই হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলার হুমকি দেয় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ
যুদ্ধ শুরুর পরই ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এর প্রভাব দ্রুত বিশ্ববাজারে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় এই প্রণালি বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
তেলের দাম বাড়া ও শেয়ারবাজারে ধস
হরমুজ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রায় ২০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক সপ্তাহেই দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে নিফটি ৫০ ও বিএসই সেনসেক্সর মতো ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক প্রায় ২.৯ শতাংশ করে কমে গেছে, যা এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন।বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি