আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দখলদার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চালানো নতুন এই হামলার ফলে ইসরায়েল–এর উত্তরাঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বহু মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়।
শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্যা টাইমস অফ ইসরাইল জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতা জারি করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নতুন এই হামলায় ঠিক কতটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের হামলার তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মধ্যরাতের দিকে ইরান অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করলে ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। এর ফলে কয়েক লাখ ইসরায়েলি নাগরিক রাতভর বাঙ্কার ও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে বাধ্য হন।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সময়ের ব্যবধানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইসরায়েলের সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘ সময় বাঙ্কারে আটকে রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি সরকারের ওপর জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করেছিল, ইরান থেকে অন্তত এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইসরায়েলের জন্য একটি “অপারেশনাল সাফল্য”, যা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীও। রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রেখে তেহরানের “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছেন। তার এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বর্তমানে ইরান, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি