আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরব দেশগুলোতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে দেশটি।
রোববার (৮ মার্চ) আরব লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি এ অবস্থান তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আরব উপসাগরীয় দেশ, জর্ডান ও ইরাকের ওপর ইরানের হামলার ঘটনায় লেবানন সরকার কঠোর নিন্দা ও স্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মানদণ্ডের লঙ্ঘন।
রাজ্জি জানান, হিজবুল্লাহর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর লেবানন সরকারের জরুরি বৈঠকে সংগঠনটির সামরিক ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, হিজবুল্লাহ বারবার লেবাননের জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে বাইরের শক্তির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। ইরানকে রক্ষা করতে গিয়ে তারা লেবাননকে এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলছে, যেখানে দেশটির কোনো স্বার্থ নেই। এর ফলে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে কঠোর সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।
লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হিজবুল্লাহ একতরফাভাবে কাজ করছে এবং তারা রাষ্ট্র ও বৈধ সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের দায় লেবানন সরকার বা জনগণের নয়।
এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ওই হামলায় ইরানের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও নিহত হন।
এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান একাধিক আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অঞ্চলে ইসরায়েলি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এরপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আবারও তেহরানের ওপর হামলা চালায় এবং সংঘাতের বিস্তার লেবানন পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে প্রায় ৬০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ৮২০টি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
আইডিএফ দাবি করেছে, এসব অভিযানে ১৯০ জনের বেশি সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের (পিআইজে) কমান্ডার আবু হামজা রামিও রয়েছেন।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বৈরুত শহরে মোট ২৭ দফা হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দাহিয়াহ এলাকায় পাঁচ দফা হামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি