| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৯, ২০২৬ ইং | ১৫:৪১:৫১:অপরাহ্ন  |  ৩৭৩০১৬ বার পঠিত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও এই পর্যায়ে পৌঁছাল।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে,এই আশঙ্কায় বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।

মার্কিন তেলের ফিউচার প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। একপর্যায়ে এটি ১১০ ডলার স্পর্শ করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ১০৮ ডলারের কাছাকাছি ওঠে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে মার্চের শেষ নাগাদ তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইরান ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, প্রয়োজন হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরায়েলি হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শেয়ারবাজারেও পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আবারও বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ডাও জোন্স সূচকের ফিউচার ৮০০ পয়েন্টের বেশি কমেছে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক সূচকের ফিউচারও প্রায় ১.৬ শতাংশ করে কমেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দামও বেড়েছে। দেশটিতে এক গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৪৫ ডলার, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তেলের দাম বাড়াকে ‘খুব ছোট মূল্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি ধ্বংস করতে পারলে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য মেনে নেওয়া যেতে পারে।

তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের কথাও জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ বীমা সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌবাহিনীর নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে কিছুটা সহায়তা করতে পারে, কিন্তু সংঘাত কমে না গেলে বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কমবে না।

এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালানোর পর সংঘাত নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এর জবাবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেল উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি করবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪