পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির গেরুয়া-ঝড়ে পতন হয়েছে তৃণমূল শাসনের। তবে ভোটে জোর করে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার (৫ মে) কালীঘাটের নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দেন তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র দেবেন না। বলেন, ‘রাজভবনে কিসের জন্য যাব? আমরা তো হারিনি যে যাব। হারলে আমি যদি শপথ নিতে যেতাম, তাহলে আমি রেজিগশনটা করতাম। এখন তো কোয়েশ্চেন ডাস নট অ্যারাইজ। জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমার গিয়ে রেজিগশনটা দিতে হবে—নো, নট দ্যাট। আমি এখনো বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।’
মমতার এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন এক সংকটের জন্ম দিয়েছে। সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থানের কারণে নাটকীয় দৃশ্য জন্ম নিয়েছে।একই সময়ে নির্বাচন হওয়া আরো কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও মমতা সেই পথে না হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল না করলে তাকে বরখাস্ত করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা দেখা যেতে পারে ভারতের বুকে। এর বাইরেও যেসব ঘটনা ঘটতে পারে সেগুলোও স্বস্তিকর হবে না রাজনীতির জন্য।
ভারতের রাজনীতিতে নির্বাচনে পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ খুব স্বাভাবিক দৃশ্য। তবে মমতা সেই স্বাভাবিকতাকে অস্বাভাবিক করে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যার প্রাথমিক ধাপ হলো মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ।
তবে মমতা শেষপর্যন্ত পদ না ছাড়লে তাকে বরখাস্ত করতে পারেন রাজ্যপাল। এ জন্য রাজভবন থেকে জারি করতে হবে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ।
আবার রাজ্যপাল সরাসরি বরখাস্ত না করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার নির্দেশও দিতে পারেন। সেখানে সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে (বর্তমান নির্বাচনী ফল অনুযায়ী তাই ঘটবে) মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া মমতার সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর বাইরে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ বা রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি করা যেতে পারে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী পরাজিত হওয়ার পর পদত্যাগ না করার অর্থ হলো রাজ্যে একটি ‘সাংবিধানিক অচলাবস্থা’ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। আর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলেই রাজ্যের সব ক্ষমতা চলে যাবে কেন্দ্রের হাতে। সে ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ।
আইনজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন। রাজ্যপাল কঠোর হয়ে সংবিধানের ক্ষমতা ব্যবহার করলে পদে থাকার চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। ৭ মে সময়সীমার আগে মমতা সিদ্ধান্ত বদল না করলে নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হবে ভারতের ইতিহাসে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব