| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

১৭ মাস পর ভারতের কারাগার থেকে ফিরলেন বগুড়ার ২৬ যুবক

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ০৮, ২০২৬ ইং | ১৫:৫৮:৪০:অপরাহ্ন  |  ১৩৫ বার পঠিত
১৭ মাস পর ভারতের কারাগার থেকে ফিরলেন বগুড়ার ২৬ যুবক

রিপোর্টার্স ডেস্ক: ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে ১৭ মাস কারাভোগের পর বগুড়ার ২৬ যুবক দেশে ফিরেছেন।  গত ২৯ মে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তারা বাংলাদেশে ফেরেন।

ফিরে আসা যুবকদের মধ্যে ২৫ জন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার এবং একজন কাহালু উপজেলার বাসিন্দা। তাদের সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন মুন্সীগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলার।

ভুক্তভোগীরা জানান, বেশি আয়ের আশায় তারা বিভিন্ন সময়ে বেনাপোল, হিলি ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন তারা।

সেখানে মাসে ২০ থেকে ২২ হাজার রুপি পর্যন্ত আয় করছিলেন তারা।
তবে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি চেন্নাই শহরের একটি পোশাক কারখানায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযোগে ২৬ বাংলাদেশি তরুণকে আটক করে ভারতীয় পুলিশ।

পরে তাদের তামিলনাড়ুর কেন্দ্রীয় কারাগার ও অভিবাসী কেন্দ্রে রাখা হয়। আদালত তাদের দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
ভারতের কারাগার থেকে ফিরে আসা মোহাম্মদ রানা জানান, ভালো আয়ের আশায় গিয়েছিলাম। কিন্তু ধরা পড়ে জেলে যেতে হয়। ১৭ মাস অনেক কষ্টে কাটিয়েছি। এখন দেশে ফিরে ভালো লাগছে।

আরেক ভুক্তভোগী আতিকুল ইসলাম জানান, দালালদের কথায় ভুল করেছি। আর কেউ যেন এভাবে অবৈধ পথে বিদেশে না যায়।

তাদের আটক হওয়ার পর পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন সন্তানদের কোনো খোঁজখবর পাননি।

আব্দুল মোমিনের মা জানান, ছেলে আটক হওয়ার পর অনেক কষ্টেই ছিলাম। রান্না-খাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ছেলের সঙ্গে থাকা দুই-তিনজন বাংলাদেশি মেয়ে ফোন করে আমাদের বিষয়টি জানিয়েছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতে অবস্থানরত অন্য বাংলাদেশিদের মাধ্যমে তারা সন্তানদের আটক হওয়ার খবর জানতে পারেন। এরপর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু করেন।

ভুক্তভোগী রানার ভাই আসাদুল ইসলাম জানান, আমরা চাই আরও যারা আটক আছে, সরকার তাদেরও দেশে ফিরিয়ে আনুক।

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালত দুই বছরের সাজা দিলেও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ১৭ মাস পর তাদের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

দেশে ফিরে আসা যুবকদের দাবি, এখনও তামিলনাড়ুর বিভিন্ন কারাগার ও অভিবাসী কেন্দ্রে ৩০০ থেকে ৪০০ বাংলাদেশি নারী, পুরুষ ও শিশু আটক রয়েছেন।

এ বিষয়ে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য অবশ্যই বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অবৈধ পথে বিদেশে গেলে জীবনের ঝুঁকির পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকে। আমাদের কাছে মানবপাচারের এমন কোনো তথ্য নেই। কেউ অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারকে জানানো হবে।

তিনি আরও জানান, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিদেশে গেলে প্রতারণা, আটক ও কারাভোগের মতো ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা থাকে। বগুড়ার ২৬ যুবকের এ ঘটনা সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ।

রিপোর্টার্স২৪/ মিতু

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪