| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মিললো ১৭ লাখ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২২, ২০২৬ ইং | ২০:৩৯:৫২:অপরাহ্ন  |  ২৪৫২ বার পঠিত
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মিললো ১৭ লাখ

রিপোর্টার্স ডেস্ক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের প্রচলিত রীতিতে পরিবর্তন এনে প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনার উদ্যোগ নিয়েছেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম। তার নেতৃত্বে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণেই দানের অর্থ গণনা হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সারওয়ার আলম মাজারের দুটি দান ডেগ এবং জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা নতুন দানবাক্স খুলে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু করান। দুপুর আড়াইটা থেকে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। পরে এ বিষয়ে ভিডিওবার্তা দেওয়ার কথা জানান বিদায়ী এই জেলা প্রশাসক।

এর আগে রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে ন্যস্ত করা হয়। যদিও ওই প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল (রহ.) ৩০৩ জন সঙ্গী নিয়ে ১৩০৩ সালে সিলেট আগমন করেন এবং এখানে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৩৪৬ সালে সিলেটে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

শাহজালাল (রহ.)-এর মৃত্যুর পর থেকে তার খাদেম এবং দরগাহর মুতাওয়াল্লিরা (পরিচালনাকারী) প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই মাজারের দেখাশোনা করে আসছেন। শত শত বছর ধরে ভক্তরা এখানে যে মানত বা দান করতেন, তা মাজারের নিজস্ব নিয়মেই খোলা ও হিসাব করা হতো। সরকারি প্রশাসন বা বাইরের সাধারণ মানুষের সেখানে কোনো ভূমিকা ছিল না।

জানা গেছে, গত ৭০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে একদম উন্মুক্ত ও জনসম্মুখে দানবাক্স খোলা হয়েছে। এর আগে কখনও এভাবে সবার সামনে বা জনসম্মুখে মাজারের দানের টাকা আনা হয়নি। অতীতে যখনই দানপাত্র বা ডেকগুলো খোলা হতো, তা সম্পূর্ণ গোপন বা ঘরোয়াভাবে মাজারের খাদেম ও মুতাওয়াল্লিদের (পরিচালনাকারী) উপস্থিতিতে করা হতো। সেখানে কত টাকা জমা হলো, স্বর্ণালংকার কতটুকু পাওয়া গেল—তার কোনো লিখিত বা সুনির্দিষ্ট হিসাব সাধারণ মানুষ কিংবা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হতো না।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে মাজারে থাকা সিলগালা করা দানের ডেগগুলো খুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় স্থাপন করা দানবাক্সগুলোও খোলা হয়। গত কয়েক দিনে জমা হওয়া অর্থের হিসাব নিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনার কাজ শুরু করা হয়। পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।

জানা যায়, বেলা ১টা ১৫ মিনিটে শাহজালালের মাজারে উপস্থিত হন বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। বিদায়ের আগে মাজারে জেলা প্রশাসকের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে দেখা দেয় সবার মাঝে কৌতূহল। এরপর খুলে দেন সিলগালা করা তিনটি ডেগের তালা। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের স্থাপন করা দানবাক্সগুলো খুলে জনসম্মুখে টাকা গণনার কাজ শুরু করেন।

গণনায় দেখা যায়, দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ টাকার পরিমাণ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে প্রায় ৭ আনা স্বর্ণ, দুটি সৌদি রিয়াল, ডলার ও পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা।

মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দানবাক্সে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা দান করে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়। একইসঙ্গে প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানার উপস্থিতিতে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

পরে শুক্রবার মাজার পরিদর্শনে গিয়ে সারওয়ার আলম মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই দান সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং ডেগগুলো সিলগালা করা হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, দান ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পরপরই মাজারভক্ত, খাদেম ও আশেকানদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। গত বৃহস্পতিবার রাতেই মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন ভক্তরা। তারা ‘শাহজালাল, শাহজালাল’ স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের পদক্ষেপকে মাজারের ঐতিহ্য ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। ‘আশেকানে আউলিয়া বাংলাদেশ’সহ কয়েকটি সংগঠনও এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের সমালোচনা করে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রত্যাহার আদেশ বাতিল ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে সিলেটে সড়ক অবরোধ, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ও নগরীর কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় ‘সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ’ ও ‘সিলেট কল্যাণ সংস্থা’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

‘সিলেটবাসীর দরকার, ডিসি সারওয়ার’, ‘শাহজালালের তলোয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার’, ‘সারওয়ার ভাই এগিয়ে যাও, সিলেটবাসী আছে সাথে’, জনতার ডিসি সারওয়ার ভাই, ভালোবাসা রইলো হৃদয়ভরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন কর্মসূচি চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, সারওয়ার আলমকে সিলেট থেকে প্রত্যাহারের পেছনে অশুভ শক্তির হাত রয়েছে। একইসঙ্গে তারা দাবি করেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে জনবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং নাগরিক স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের স্বার্থে তাকে অন্তত আরও এক বছর সিলেটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

রিপোর্টার্স২৪/ মিতু

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪