মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা-এ নিখোঁজের ছয় দিন পর ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে নিহতের মা বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সিঙ্গাইর থানা-এ মামলাটি করেন। মামলার পর স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের এক ছাত্র, তার পরিবারের সদস্য এবং দুই শিক্ষকসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়-এর দশম শ্রেণির এক ছাত্র (১৬), তার মা ও বোন, স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হোসেন, মাসুদ রানা ও সুজন হোসেন, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম এবং আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রের সঙ্গে নিহত মারিয়ার (১৪) আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে টিসি প্রদান করে।
এরপর একই দিন মারিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় এবং সঙ্গে মোবাইল ফোনও রেখে যায়। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
ছয় দিন পর রোববার বিকেলে উপজেলার চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশের ঝোপ থেকে তার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের ওপরের অংশ গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের সঙ্গে ছিল এবং নিচের অংশ পাশেই পড়ে ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অভিযুক্ত ছাত্রের কানাইনগর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
সিঙ্গাইর থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার কিশোরকে কিশোর আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাত আসামিকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হলেও শুনানি না হওয়ায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু