সিনিয়র রিপোর্টার : মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশারের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই খালিদ সাইফুল্লাহ। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে বাশারকে দুপুর ১টায় খায়রুল বাশারকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এ সময় বাশারের কাছে প্রতারিত হওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আদালতে হাজির হন। তারা বাশারের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। দুপুর ৩টা ২০ মিনিটের দিকে হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলার জন্য বের করা হয় বাশারকে।
সিএমএম আদালতের গেটে পৌঁছা মাত্রই তার ওপর ডিম নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত সিএমএম আদালতের তৃতীয় তলায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্যাহর আদালতে নেওয়া হয়। সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগীরা তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। আদালতকক্ষে ঢোকার সময়ও তার ওপর হামলা চালানো হয়, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরে পুলিশ ও আদালতের হস্তক্ষেপে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।
এরপর রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। বাদীপক্ষে অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন খন্দকার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতকে বলেন, বাশার ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান। লন্ডন, আমেরিকা, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। ক্যামব্রিয়ানের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন শেষ করে দিয়েছেন তিনি। ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কাজ করেছেন। বর্তমান যুগের নমরুদ তিনি। প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ৫ কোটি টাকা খরচ করে ‘বাশার বাহিনী’ গঠন করেছেন। যারা টাকার জন্য যেত তাদের ওপর নির্যাতন চালাতো ওই বাহিনী।
বিচারক খায়রুল বাশারকে প্রশ্ন করেন, এই কাজগুলো (শিক্ষার্থীদের কাজ থেকে টাকা আত্মসাৎ) কেন করলেন? তখন তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। কোনো কারণে যদি তাদের বিদেশ পাঠাতে ব্যর্থ হন বা অপরাগ হন তাহলে কেন টাকা ফেরত দেননি? তখনও তিনি কোনো কিছুর উত্তর দেননি।
এরপর বিচারক বলেন, আপনার বিরুদ্ধে কতটা মামলা হয়েছে জানেন? তখন বলেন, আনুমানিক ৭০টা হয়েছে। তখন বিচারক বলেন, যত মামলা হয়েছে, মোকাবিলা করতে গেলে তো সারা জীবন কারাগারে কেটে যাবে। তখন বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, টাকাগুলো যে আত্মসাৎ করলেন আপনার মানবিক সত্তা জাগ্রত হয়নি? কয়টা বিয়ে করেছেন? উত্তরে তিনি জানান, দুইটা। তখন আরেক প্রশ্ন করেন, আপনার সন্তান কয়জন? তখন তিনি বলেন, ছয়জন। বিচারক বলেন, টাকা নিয়ে এসব শিক্ষার্থীদের জীবন কেন হুমকির মুখে ফেলে দিলেন? একবারও কি আপনার সন্তানদের কথা মনে পড়েনি?
পরে বাশারের আইনজীবী কাজী আনিসুর রহমান রিমান্ড নামঞ্জুর চেয়ে জামিন শুনানি করতে চান। তখন আদালতে উপস্থিত কয়েকজন ভুক্তভোগী ওই আইনজীবীকে বলতে থাকেন, আপনার লজ্জা নাই, নির্লজ্জ! পরে তিনি আর শুনানি করেননি। এরপর আদালত তার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার দুপুর ১টার দিকে খায়রুল বাশারকে ঢাকার ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/আরএইচ