কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) দায়ী করেছেন আইসিসির সাবেক মিডিয়া প্রধান সামিউল হাসান বার্নি। তার মতে, বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মদন লাল বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান সরকার এবং পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) আসলে নিজেদের ক্রিকেটের পায়েই কুড়াল মারছে।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মানসিক ও অর্থনৈতিক চাঙ্গা রাখার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। নামকরণ করা হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ ২০২৬’। টুর্নামেন্ট আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল পর্যন্ত চলবে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির ব্রিফিংকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নীরবতার কারণ জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এ রুল দেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি শেষে আইনজীবীরা আদালতকে জানান, জাহানারা আলমের অভিযোগে বিসিবির নিষ্ক্রিয়তা এবং নির্লিপ্ততা পরিলক্ষিত হয়েছে। এই নীরবতা কেন আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা বিসিবিকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, বিসিবি এই অভিযোগের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, সে সম্পর্কে আদালতকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করবে।
বিশ্বকাপের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে সৃষ্ট কূটনৈতিক ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট উত্তাপ বর্ধিত হচ্ছে — পাকিস্তানের সাবেক তারকা ক্রিকেটার রশিদ লতিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে ফিরিয়ে না আনলে পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ খেলবে না। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানকে প্রয়োজনীয় মর্যাদা না দিলে দেশটি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না। চলমান বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে—নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি না হওয়ার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশকে মূল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে ভারত পাকিস্তান-বিরোধী ম্যাচ বয়কট ঘোষণা করলে আইসিসি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ায় পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে বলে সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়ায়। এই পরিস্থিতিতে রশিদ লতিফ জিও নিউজকে বলেন, পাকিস্তান তখনই কেবল ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে যখন বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনা হবে এবং পাকিস্তানকে সম্মান দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আইসিসি যতই চিঠি পাঠাক, পিসিবিকে চিঠি লেখার চেয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে কথাটি উল্লেখ করা উচিত। রশিদ অভিযোগ করেন, পিসিবি কোন প্রেস রিলিজ দেয়নি, চিঠিও লেখেনি।
ইংল্যান্ডে চলমান নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ হারিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তারা নজির গড়ে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে টাইগ্রেসরা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দারুণ খেলা উপস্থাপন করেছে। গত রোববার নেপালের মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ নারী দল নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে বড় জয় তুলে নেয়। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ডাচরা ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০২ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ স্পিনার নাহিদা আক্তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৩টি উইকেট নিয়ে দলের জয়ের পথ সুগম করেন। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগ্রেসরা ২০ বল হাতে রেখে এবং ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে। অধিনায়ক জ্যোতি হাফ সেঞ্চুরি করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আইপিএলের শুরুতে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিলামে নেওয়া হলেও পরবর্তীতে চুক্তি থেকে তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশি এই পেসারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা শশী থারুর। তার মতে, রাজনীতির কারণে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে দূরে রাখা ছিল দুর্ভাগ্যজনক। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় শশী থারুর বলেন, ‘আমি মনে করি না, মোস্তাফিজুরকে কলকাতার হয়ে খেলতে
দেশের নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি নিরাপদ, হয়রানিমুক্ত এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল ক্রীড়া পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আর্থিক ও বাণিজ্যিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি ম্যাচ বর্জনের ফলে বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাব্য ক্ষতি হতে পারে অন্তত ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা) বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে সম্প্রচারকারীরা।
২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে তাদের গ্রুপ লিগ ম্যাচ বয়কট করেছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তান সরকার এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জানিয়েছে, দলটি বিশ্বকাপের অন্যান্য ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে, তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসলামিক রিপাবলিক অফ পাকিস্তান সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ২০২৬ সালের আইসিসি টি–২০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট দল ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক জটিলতা ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবারও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ঘোষণায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়, পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান দল অংশ নেবে না। ম্যাচ বয়কটের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সরকারিভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ, কিন্তু ফাঁকা সময়টাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের জন্য তিনটি প্রতিযোগিতামূলক দল।
দেশের ক্রিকেটকে জনসাধারণ তথা দর্শকদের মাঝে তুলে ধরতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। খবরের খোঁজে দিনের বোশিরভাগ সময় ক্রিয়া সাংবাদিকদের কাটে মিরপুর স্টেডিয়ামে। তবে এখন থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা চাইলেই আর স্টেডিয়ামে ঢুকে কাজ করতে পারবেন না। তবে স্টেডিয়ামে ঢুকতে সাংবাদিকদের লগবে বিসিবির আমন্ত্রণ।