রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)–এর বিরুদ্ধে কর মওকুফ, অনুদান গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় সিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং তার বোন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট আটজনকে আসামি করা হবে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম।
মামলার সম্ভাব্য অভিযুক্তরা হলেন-সজীব ওয়াজেদ জয়, চেয়ারম্যান, সিআরআই। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ট্রাস্টি, সিআরআই। রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, ট্রাস্টি। নসরুল হামিদ (বিপু), সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। শাব্বির বিন শামস, নির্বাহী পরিচালক, সিআরআই। রওশন আরা আক্তার, সদস্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর। আ.হ.ম. মোস্তফা কামাল, সাবেক অর্থমন্ত্রী।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ লঙ্ঘন করে সিআরআইকে কর মওকুফের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত না হয়েও কর সুবিধা নিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তদবির ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্টরা তদবির ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। সিআরআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২৩টি কোম্পানি থেকে মোট ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা আয় করেছে।
অগ্রহণযোগ্য ব্যয় বাদ দিলে সিআরআইয়ের হিসাব অনুসারে ৭০ কোটি ৮০ লাখ ৪২ হাজার ৩৯০ টাকা থাকা উচিত ছিল, কিন্তু প্রকৃত হিসাব পাওয়া গেছে মাত্র ৫৫ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬ টাকার। অর্থাৎ প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
এছাড়া, সিআরআইয়ের নামে পরিচালিত ২৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে জমা হয়েছে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর না দেওয়ার মাধ্যমে সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনার সঙ্গে মানিলন্ডারিংও সংশ্লিষ্ট ছিল বলে উল্লেখ করেছে দুদক। যার ফলে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে