| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রয়টার্স-এর প্রতিবেদন: ছাত্র আন্দোলন দমনে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ইং | ১১:০২:৩৯:পূর্বাহ্ন  |  ১২৭৫৫১৭ বার পঠিত
রয়টার্স-এর প্রতিবেদন: ছাত্র আন্দোলন দমনে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৪ সালে ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে, দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণা করে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সোমবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

এ রায়কে গত কয়েক দশকের মধ্যে কোনো সাবেক বাংলাদেশি নেতার বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে নাটকীয় আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এ রায় এলো।

হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ রায় ভোটের আগে নতুন করে সহিংসতা উসকে দিতে পারে।

ঢাকায় অবস্থিত দেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ আদালত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এবং অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করে। হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ভারত পালিয়ে যান।

মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে আজীবন কারাদণ্ড এবং বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালতে উল্লাস ও করতালির ঘটনা দেখা যায়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা যাবে। তবে রায়ের আগের দিন রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনার ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জানান আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না এলে তারা আপিল করবেন না।

১৯৭১ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটররা আদালতকে জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ তারা পেয়েছেন।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১,৪০০ জন পর্যন্ত নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হতে পারে যা বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা।

হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আদালতে বলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তিনি খালাস দাবি করেন।

রায়ের আগে হাসিনা অভিযোগ ও ট্রাইব্যুনালের নিরপেক্ষতা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ছিল “আগে থেকেই স্থির করা”।

রায় ঘোষণার আগে সারাদেশে কমপক্ষে ৩০টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ২৬টি যানবাহন অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যদিও কোনো প্রাণহানি হয়নি।

“রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”

৭৮ বছর বয়সী হাসিনা, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন, গত মাসে রয়টার্সকে দেওয়া ইমেইল সাক্ষাৎকারে ট্রাইব্যুনালের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন।

তিনি বলেন, “এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রহসন। এটি ক্যাঙ্গারু কোর্ট পরিচালনা করছে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত হওয়া আগে থেকেই নিশ্চিত। যারা বিচার করছে তারা আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং অনির্বাচিত।”

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার নির্দেশ দেননি বলেও উল্লেখ করেন।

১৭ কোটি মানুষের মুসলিম-প্রধান বাংলাদেশ এখন নোবেল শান্তি বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও দেশ কিছুটা শান্ত রয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এখনো ফিরে আসেনি।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং কোটি কোটি দলীয় কর্মী আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন বর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সোমবার ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে কঠোর নিরাপত্তা জারি ছিল প্যারামিলিটারি বাহিনী প্রধান প্রধান সরকারি স্থাপনায় এবং ট্রাইব্যুনাল ভবনে মোতায়েন ছিল। কর্তৃপক্ষ জানায়, রায়কে কেন্দ্র করে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪