| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

তিশা মিথ্যা বলছেন, দাবি কলকাতার পরিচালকের

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ২৫, ২০২৫ ইং | ১১:৪৪:২৬:পূর্বাহ্ন  |  ১২৪০১০৭ বার পঠিত
তিশা মিথ্যা বলছেন, দাবি কলকাতার পরিচালকের

স্টাফ রিপোর্টার: ‘ভালোবাসার মরশুম’ নামের একটি টলিউড সিনেমায় কাজের কথা ছিল তানজিন তিশার। শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান অভিনেত্রী। এবার সেই ছবির প্রযোজক শরীফ খান (তিশার দাবি তিনি প্রযোজক নন) অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তিশার নামে। তার দাবি, ছবিতে কাজ না করলেও অগ্রিম পারিশ্রমিক হিসেবে নেওয়া সাড়ে চার লাখ টাকা ফেরত দিচ্ছেন না অভিনেত্রী।

এরইমধ্যে বিষয়টি নজরে পড়ে তিশার। রোববার (২৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে এক বিবৃতি দেন তিনি। ওই বিবৃতিতে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ উড়িয়ে দেন। পাশাপাশি ছবিটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান। এবার ছবির পরিচালক এমএন রাজ অপমানজনক বাক্য প্রয়োগের অভিযোগ আনলের তিশার বিরুদ্ধে। সেইসঙ্গে তার দাবী, মিথ্যা বার্তা দিচ্ছেন তিশা।

এমএন রাজ এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি অন্য একটি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। বিষয়টি নিয়ে যে এতকিছু হয়েছে আমি জানতাম না। নিউজ দেখে জানতে পারি যে ভেতরে ভেতরে এত জল ঘোলা হয়ে গেছে। জানলে নিষেধ করতাম। আর যেহেতু তিশাকে টাকা দেওয়া হয়েছে সে অবশ্যই ফেরত দেবে।’ 

কিন্তু নিজের বিবৃতিতে তিশা জানিয়েছেন, ভালোবাসার মরসুমের চুক্তিপত্রে টাকা ফেরতের কথা উল্লেখ নেই। বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই পরিচালক বলেন, ‘কোনো চুক্তিপত্রে পারিশ্রমিক ফেরত দেওয়ার বিষয় উল্লেখ থাকে না। সেটা আমাদের বা অন্য কারও হোক। আর তিশা তো কাজ করেনি। কিছু টাকা তো ফেরত দেবে। এই জলঘোলা করে কী লাভ।’

সেইসঙ্গে বলেন, ‘তিশার জন্য আমরা এক মাস অপেক্ষা করেছি। তার জন্য শরমন যোশির মতো অভিনেতাকে অনুরোধ করে তারিখ বদলেছি। ওর (তিশার) স্লট বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে অ্যাম্বাসিতে গিয়েও পাসপোর্ট জমা দেয়নি। এই ভুলটা তো কারও না। তার নিজের। এরপর সে আমেরিকায় চলে গেল। এই মুহূর্তে একবার স্লট বেরিয়ে গেলে নতুন করে স্লট বের করা কঠিন। তাছাড়া স্লট বের করতে অনেক টাকা লেগেছে। তাই আমি বলেছিলাম, তিশা, তুমি শুধু পাসপোর্ট জমা দাও। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে যাও। সেসময় খুব অপমানজনক কথা বলে। সে বলে, I don't care about it. এরপর থেকে তাকে আমি আর ফোন দিই না।’

এদিকে তিশা অভিযোগ এনেছেন ছবিটির জন্য তিনি দুই মাস অপেক্ষা করেছেন। এ বক্তব্য উড়িয়ে দিয়ে রাজ বলেন, ‘এটা ভুল কথা। আমার তারিখ ছিল সেপ্টেম্বরে প্রথম সপ্তাহে। ঢাকায় গিয়েছিলাম সম্ভবত জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে। ওখানে গিয়ে সমস্ত কথাবার্তা বলা হয়। তিশা রাজি হয়। যেহেতু শরমন যোশির শিডিউল নেওয়া ছিল সেহেতু ওই ডেট নড়াতে পারিনি। তিশাকে রিকোয়েস্ট করেছিলাম যোশির সাথে আমাদের ফার্স্ট সেপ্টেম্বর থেকে ডেট নেওয়া। অতএব ওই অনুযায়ী কাজ করতে। আমাদের কথায় তিশা রাজি হয়। এরপর বাংলাদেশের একজন এজেন্ট ধরি। কিন্তু পাসপোর্টের  স্লট বের হতে দেরি হচ্ছিল। বুঝতে পারছিলাম না কী করব। কেননা সেপ্টেম্বরের এক তারিখ থেকে আমার শুটিং। টিকিট, হোটেল, লোকেশন বুকিং। তখনও তিশার ভিসা হচ্ছে না। ভিসার জন্য তিশা নিজে থেকে চেষ্টা করেনি। আমাদের ওপর ভরসা করেছিল।’ 

রাবণের পরিচালক বলেন, ‘আমরা এখান (ভারত) থেকে এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। শেষমেশ সেপ্টেম্বরের চার তারিখে এজেন্ট স্লট বের করে। ততদিন পর্যন্ত বসে আছি। কাজ শুরু করতে পারিনি। অনেক অর্থ লগ্নি হয়ে গেছে। কেননা দার্জিলিংয়ের মতো জায়গায় শুটিং। খরচ অনেক। যাইহোক তবুও ভাবলাম, আর এক সপ্তাহ অপেক্ষা করি।’

অ্যাম্বাসিতে তিশার অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণের দাবি করে পরিচালক বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর তিশার অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার কথা ছিল সকাল ৯ টায়। সে এক ঘণ্টা দেরিতে যায়। এদিকে এজেন্ট আমাকে বারবার ফোনে জানাচ্ছিল, তিশা ফোন ধরছেন না, এখনও আসেননি ইত্যাদি। পরে সকাল দশটায় তিশা অ্যাম্বাসিতে পৌঁছান। কিন্তু গিয়ে পাসপোর্ট জমা দিচ্ছিল না। আমাকে ফোন করে বলছিল, বিকেলে ভিসা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলে আমি পাসপোর্ট জমা দেব। আমি বললাম, দেখ তিশা এটা তো সম্ভব না। আমার হাতে নেই। সকালে দিয়ে বিকেলে ভিসা নেওয়াটা খুবই চাপ। তবে আগামীকাল (৫ সেপ্টেম্বর)  ভিসা হয়ে যাবে সে নিশ্চয়তা দিতে পারি। কিন্তু সে দেবেই না। বারবার রিকোয়েস্ট করার পর যখন রাজি হলো তখন সার্ভার চলে যায়। এরপর আর অপেক্ষা করেনি সে। ১৫-২০ মিনিট পর চলে যায়। ও চলে যেতেই সার্ভার চলে এলো। কিন্তু তিশা আর আসেনি। কেননা সেদিন দুপুর ২ টার সময় নাকি তার কোথায় ওপেনিং আছে। আমি এক ঘণ্টার জন্য আসতে অনুরোধ করলে তার উত্তর ছিল, I don't care about it। এরপর আমি তাকে আর ফোন দেইনি। কেননা খুব অপমান বোধ করি তার কথায়। আমার তো একটা রেপুটেশন আছে। একজন অভিনয়শিল্পী নির্মাতাকে এভাবে বলতে পারে না।’ 

তিশা তার বিবৃতিতে বলেন, ‘পরিচালক তার ব্যর্থতার জন্য শিডিউল অনুযায়ী কাজ শুরু করতে পারেনি এবং নতুন একজনকে সেখানে চুক্তিবদ্ধ করে নিয়েছে তাই বাধ্য হয়েই আমাকে সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে।’

অভিনেত্রী ভুল বার্তা দিচ্ছেন দাবী করে এমএন রাজ বলেন, ‘তিশার জন্য আমরা এক মাস অপেক্ষা করেছি। সেপ্টেম্বরের ১৭-১৮-১৯ তিন দিন শুটিং করেছি নায়িকাকে ছাড়া। দুর্গাপূজার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। পূজার পর আমি বাধ্য হয়েছি অন্য নায়িকা নিতে। এখানে দোষটা কার? ও ভুল বার্তা দিচ্ছে। এগুলো উচিত না। সঠিকটা বলুক। ভুল বিবৃতি দিলে তো হবে না।’

সবশেষে এমএন রাজ জানান, ‘ভালোবাসার মরশুম’-এর প্রথম লটের শুটিং সম্পন্ন হয়েছে এরইমধ্যে। তাতে ছবির প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ। আগামী জানুয়ারিতে দ্বিতীয় লটের কাজ শুরু হবে। ভালোবাসা দিবসে ছবিটি মুক্তি দিতে চাচ্ছেন তিনি। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪