রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা অন্তর্ভুক্ত করে নতুন অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। সোমবার (১ নভেম্বর) এ-সংক্রান্ত সরকারি গেজেট জারি করা হয়। এর আগে ৬ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে। এ আইনের অধীনে গুম সংক্রান্ত অপরাধ জামিন–অযোগ্য ও আপস–অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা স্বাধীনতা হরণের পর বিষয়টি অস্বীকার করলে এবং এতে ভুক্তভোগী আইনগত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে সেটি গুম বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ন্যূনতম শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড।
গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে বা পাঁচ বছর পরও নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা না গেলে দায়ী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
গুমের স্বাক্ষ্য–প্রমাণ নষ্ট করা বা গোপন আটককেন্দ্র নির্মাণ–ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা কমান্ডারের নির্দেশ, অনুমতি, সম্মতি, প্ররোচনা বা অবহেলার কারণেও অধস্তনদের অপরাধে তাঁদের সমপর্যায়ের শাস্তিযোগ্য ধরা হবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করা পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তির অবস্থান ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ গোপন রাখা যাবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক হলেও তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার সম্পন্ন করা যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি