রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ‘ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট’ সুবিধা দেওয়ার ভারতের আবেদন বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে। শুক্রবার আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের কারণে এই ট্রানজিট সুবিধা আর দেওয়া হবে না। ব্যান্ডউইথ হলো প্রতি সেকেন্ডে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতা, যা ইন্টারনেট সংযোগের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এক সূত্র জানায়, এ ধরনের ট্রানজিট অনুমোদন করলে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হতে পারে। বিটিআরসি ১ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, আখাউড়া সীমান্তে একটি টেরেস্ট্রিয়াল কেবল সংযোগ স্থাপন করে ভারতের সঙ্গে ইন্টারনেট ট্রানজিট চালু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিটিআরসির অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, বাংলাদেশের প্রকৃত লাভ এ সংযোগ থেকে খুবই সীমিত, বরং সুবিধাভোগী হতো ভারত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দুটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সামিট কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফরিদ খান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ফারুক খানের ভাই, এবং একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠজন।
এর আগে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম ভারতী এয়ারটেল লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে আখাউড়া থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট সংযোগ স্থাপনের জন্য আবেদন করেছিল। প্রাথমিকভাবে প্রস্তাবে সম্মতিও দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি