ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিটি গত শনিবার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে একটি বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে সমাবেশটি ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চলাকালে রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তিনি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন ও আঙুল উঁচিয়ে বারবার হুমকিসূচক ভঙ্গি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন মারমুখী আচরণ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে বিচারিক কাজে বাধা সৃষ্টি হয় এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট হুমকির মুখে পড়েন। এসব ঘটনাকে নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর লিংকও চিঠিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। আপনাদের ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমন যেকোনো আসনেই ৫ আগস্ট ঘটতে পারে।
তবে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুমিন ফারহানা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সভা থেকে প্রশাসনের প্রতি অশোভন আচরণের বিষয়টি বোঝাতে গিয়ে আমি ‘এই রকম’ ইঙ্গিত করেছিলাম, বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শনের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি আশা করি প্রশাসন কারও পক্ষ নেবে না।
ঘটনাটি নিয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মহলের।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি