স্টাফ রিপোর্টার: চলমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিতর্কিত ভূমিকা এবং দেশজুড়ে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসাইন, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আয়মান রাহাত বলেন, বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এক জনসভায় প্রকাশ্যে দাবি করেছেন তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের জরিপ ব্যবহার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা যদি কোনো একটি দলের প্রার্থী নির্বাচনে ভূমিকা রাখে, তাহলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে; বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালক ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণগ্রহীতাদের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।
নোয়াখালীর হাতিয়া ও শেরপুরের ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে আয়মান রাহাত বলেন, নোয়াখালী-৬ আসনে ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও জামায়াতের ওপর হামলার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। বরং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা হামলাকারীদের পক্ষ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, শেরপুরে বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় এক জামায়াত নেতা নিহত হলেও মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন, যা নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাদ যাবে এমন বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের অপতথ্য রোধে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানাই।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অনলাইনে হয়রানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
আয়মান রাহাত বলেন, হামলার তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও যখন কোনো গ্রেপ্তার হয় না, তখন আশ্বাসের কোনো মূল্য থাকে না। একটি নির্দিষ্ট পক্ষ যখন ধারাবাহিকভাবে হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে, তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি