আশিস গুপ্ত :
গাজা মানবিক ফাউন্ডেশন (Gaza Humanitarian Foundation - GHF) আবারও গাজা উপত্যকায় তাদের সমস্ত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের "নিরাপত্তার জন্য" কেন্দ্রগুলো থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে এই সপ্তাহের শুরুতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলায় শত শত ত্রাণ প্রার্থী নিহত ও আহত হওয়ার পর GHF একদিনের বেশি সময় ধরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল। এই পদক্ষেপ গাজার মানবিক পরিস্থিতি যে কতটা সঙ্গীন, তা আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে যে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গাজার শিশুদের মধ্যে তীব্র অপুষ্টির শিকার হওয়ার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, বর্তমানে ২,৭০০-এর বেশি শিশু এই সমস্যায় ভুগছে। অবরোধ এবং চলমান সংঘাতের কারণে গাজায় খাদ্য ও মৌলিক সরবরাহের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্য ও জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গতকাল গভীর রাতে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলী দাহিয়ে (Dahiyeh) এবং দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় বোমা হামলা চালিয়েছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট এই হামলাকে হিজবুল্লাহর সাথে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির "প্রকাশ্য লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেছেন। এই হামলা আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় প্রায়শই উত্তেজনা দেখা যায়, কিন্তু বৈরুতের দিকে হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪,৬৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১২৫,৫৩০ জন আহত হয়েছেন। এই সংখ্যা যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং বেসামরিক নাগরিকদের উপর এর বিধ্বংসী প্রভাবের প্রমাণ। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস পরিচালিত হামলায় ইসরায়েলে আনুমানিক ১,১৩৯ জন নিহত হয়েছিলেন এবং ২০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে বন্দী করা হয়েছিল।
গাজায় মানবিক পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। ত্রাণ বিতরণে বাধা, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আক্রমণ এবং খাদ্য সরবরাহের অপ্রতুলতা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও, সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা বিতরণের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা না হলে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।