ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে বাধা ও তার কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তার কর্মী আহাদ বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তারাসহ পাঁচজনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে সরাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন রুমিন ফারহানা। রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ‘ভুয়া’ স্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন জুতা পায়ে শহীদ মিনারে ওঠেন এবং দেওয়া ফুল ছিঁড়ে ফেলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রুমিন ফারহানা শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় স্থান ত্যাগ করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার সমর্থকেরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ করেন। টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা পুলিশের আশ্বাসে রাত দেড়টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, যিনি ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট পান। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক পদে থাকা অবস্থায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তিনি দলীয় পদ হারান।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি