স্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহাসিক ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার (২ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন সংলগ্ন বটতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, জাতীয় পতাকা কোনো সাধারণ কাপড় নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, ঐক্য, সংগ্রাম ও জাগরণের প্রতীক। তিনি বলেন, জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো আমাদের পরিচয় নির্মাণ করে এবং জাতীয় চেতনা ও দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করে।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ।
উপাচার্য তার বক্তব্যে দেশের গৌরবময় ইতিহাসে অবদান রাখা সকল শহীদ ও সংগ্রামী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা আমাদের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য এবং জাতীয় পতাকা সেই ঐক্যের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে জাতিকে একত্রিত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনাপর্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সবুজ রং বাংলাদেশের প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক এবং লাল বৃত্ত শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন—যা অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন এবং ২ মার্চ কলাভবন প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার আন্দোলন সুসংগঠিত রূপ পায়। সবুজ জমিনে লাল বৃত্ত ও সোনালি মানচিত্রসংবলিত পতাকা তখন মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে পতাকা উত্তোলনের সাহসী ঘোষণার চূড়ান্ত পরিণতি আসে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয়ের মাধ্যমে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য—সার্বভৌম, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা—অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও আত্মত্যাগের দৃশ্যমান প্রতীক। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব