আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলার মধ্যেই সোমবার শহরের এঙ্গেলাব স্কোয়ারে নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমাবেশ করেছেন বহু মানুষ। অংশগ্রহণকারীরা নিহত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি বহন করেন এবং তার পাশে মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতিও প্রদর্শন করেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচারিত ভিডিওতে দেশের আরও কয়েকটি শহরেও অনুরূপ সমাবেশ দেখা যায়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা “আমেরিকার মৃত্যু হোক” ও “ইসরায়েলের মৃত্যু হোক” স্লোগান দেন। সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
তবে মাত্র নয় দিন আগে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইরানের বিভিন্ন শহরে কিছু মানুষকে আনন্দ প্রকাশ করতেও দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের জন্য অনেকেই তাকে দায়ী করেন।
নতুন সুপ্রিম লিডার ঘোষণার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে তেহরানে মোজতবা খামেনির বিরুদ্ধেও স্লোগান শোনা যায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সরকারের আরোপ করা ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা এখনও পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি।
সোমবার এক সরকারপন্থী সমাবেশে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাহরা মিরবাগেরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মোজতবার নিয়োগ আমাদের শত্রুদের জন্য এক ধরনের চপেটাঘাত। তারা ভেবেছিল তার বাবাকে হত্যার পর পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এতদিন জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিতেন। তবে তিনি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও তাদের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অনেকের মতে, নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চলছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে—যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমালোচকদের মতে, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ক্ষমতা আরও পরিবারকেন্দ্রিক ও কঠোর হতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, তার নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং বিদেশি চাপের মুখে ইরানকে আরও দৃঢ় অবস্থানে রাখবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: দা গার্ডিয়ান