| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

উপসাগরীয় দেশগুলো ভূপাতিত করল ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র

বাহরাইনে ইরানের হামলায় নারী নিহত

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১০, ২০২৬ ইং | ১৬:২২:১২:অপরাহ্ন  |  ৩৬৯৫১৪ বার পঠিত
বাহরাইনে ইরানের হামলায় নারী নিহত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনে এক নারী নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজধানী মানামার একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ২৯ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন এবং অন্তত আটজন আহত হন।

এর আগে সোমবার সিত্রা দ্বীপে ইরানের ড্রোন হামলায় কয়েকজন শিশুসহ দুইজন আহত হন বলে জানায় দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বাহরাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ১০২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাধারণ কমান্ড এক বিবৃতিতে এই হামলাকে “পাপপূর্ণ ইরানি আগ্রাসন” বলে উল্লেখ করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে একযোগে হামলা

মঙ্গলবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহর দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।একই সময়ে সৌদি আরব জানায়, তাদের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের আকাশে দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। আর কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড জানায়, দেশটির উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে আক্রমণের চেষ্টা করা ছয়টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।এদিকে কাতারের বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও সাতটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা

সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো মূলত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে।বাহরাইনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি বাপকোরর তেল শোধনাগারে হামলার পর প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স মাজর’ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ পরিস্থিতির কারণে তারা কিছু চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে পারছে না।

এছাড়া সৌদি আরবের শায়বাহ তেলক্ষেত্রেও ড্রোন হামলা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনকারী এই স্থাপনাটি গত কয়েক দিন ধরে টানা হামলার মুখে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা

ইরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।

এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও অনেক বেশি শক্তিশালী হামলা চালাবে।

তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন,ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আগের চেয়ে বিশ গুণ কঠোর আঘাত হানবে।এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পসর মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন,এই যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা ইরানই নির্ধারণ করবে।

তেলের দামে অস্থিরতা

যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ১২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও মঙ্গলবার ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলার ছিল, যা যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪