আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হাইতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ড্রোন হামলায় ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,২৪৩ জন নিহত এবং ৭৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে শিশু রয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে হাইতির নিরাপত্তা বাহিনী গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিস্ফোরকযুক্ত কোয়াডকপ্টার ড্রোন ব্যবহার করছে। এসব হামলার বেশিরভাগই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চালানো হয়েছে, বিশেষ করে রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সি-এ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি সামরিক প্রতিষ্ঠান ভেক্টাস গ্লোবালের সহায়তায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর আমেরিকা অঞ্চলের পরিচালক Juanita Goebertus বলেন, আরও শিশু নিহত হওয়ার আগে হাইতির কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের হয়ে কাজ করা বেসরকারি ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিম বিভাগে পরিচালিত হামলাগুলোতে অন্তত ১৭ শিশু ও ৪৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন, যাদের কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাতটি ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করে যানবাহন ও মানুষের ওপর হামলার দৃশ্য দেখা যায়। এর মধ্যে চারটির অবস্থান রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে শনাক্ত করা হয়েছে।
একটি হামলার ঘটনা ঘটে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর শহরের সিমন পেলে এলাকায়। সেখানে এক গ্যাং নেতা শিশুদের উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ড্রোন হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাইতির প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে বিভিন্ন গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর হাতে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহারের কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
এদিকে জাতিসংঘর মানবাধিকার দপ্তর আগেই সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের ড্রোন হামলা অনেক ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত ও সম্ভাব্যভাবে অবৈধ’ হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি