| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হরমুজ সংকটে বিশ্বে আতঙ্ক, কিন্তু কেন শান্ত চীন?

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১০, ২০২৬ ইং | ১৮:০০:০৬:অপরাহ্ন  |  ৩৬৯৩৩৮ বার পঠিত
হরমুজ সংকটে বিশ্বে আতঙ্ক, কিন্তু কেন শান্ত চীন?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধাক্কা লাগলেও চীন তুলনামূলকভাবে আতঙ্কিত নয়। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দুই দশক ধরে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় বেইজিং এখন তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছায়।

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে পথটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে শেয়ারবাজার ও জ্বালানি বাজারে পড়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অবস্থান অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভিন্ন। ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ এসেছে ইরান থেকে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেল কম দামে পাওয়ায় চীন দীর্ঘদিন ধরে তা কিনে আসছে।

চীনের হাতে বর্তমানে প্রায় ১.১ থেকে ১.৪ বিলিয়ন ব্যারেল কৌশলগত ও বাণিজ্যিক তেল মজুত রয়েছে, যা প্রায় ১৪০ দিনের আমদানির চাহিদা পূরণ করতে পারে। এছাড়া দেশটি দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়িয়েছে, ফলে তেলের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসা তেল চীনের মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ৬.৬ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সরবরাহে সমস্যা হলেও চীন তা তুলনামূলকভাবে সামাল দিতে পারবে।

তবে ঝুঁকি একেবারে নেই এমনও নয়। গত কয়েক বছরে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন শিল্প প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে চীনা কোম্পানিগুলো।

এছাড়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে চীনকে আরও বেশি জ্বালানি আমদানি করতে হতে পারে রাশিয়া থেকে। ইতোমধ্যে রাশিয়া চীনের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে চীন-রাশিয়া জ্বালানি সম্পর্ক আরও গভীর হওয়া।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪