ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এক চরম উত্তেজনার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ইরান থেকে ইসরাইল, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে একযোগে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন ঘটনার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করে তোলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী একটি বড় ধরনের মিসাইল হামলা প্রতিহত করেছে। রাজধানী দোহার আকাশে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
কাতারি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের মোবাইলে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি’র বিষয়ে সতর্ক করেছে। তবে কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি বার্তায় জানানো হয়, হুমকি নির্মূল হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, কাতার বারবার এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নিরাপত্তার এই হুমকি সবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থিত রুওয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সে একটি ড্রোন হামলার ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমিরাতের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি মোকাবিলা করছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ মেরিটাইম এজেন্সি জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে ৩৬ নটিক্যাল মাইল দূরে সমুদ্রের মাঝে একটি বড় জাহাজের কাছে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সমুদ্রে আছড়ে পড়েছে।
ইসরাইলি হামলার ভীতিকর অভিজ্ঞতা জানালেন তেহরানের বাসিন্দারাইসরাইলি হামলার ভীতিকর অভিজ্ঞতা জানালেন তেহরানের বাসিন্দারা
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখে দিতে তাদের ডিফেন্সিভ সিস্টেমগুলো কাজ করছে। আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।
কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকলেও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। কাতার স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখবে তা অন্য কোনো পক্ষ নির্ধারণ করে দিতে পারবে না। তবে চলমান যুদ্ধ বন্ধের যে কোনো প্রচেষ্টাকে তারা স্বাগত জানায়।
একই দিনে তিনটি ভিন্ন দেশের ওপর ইরানের এই হামলা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। বিশেষ করে কাতার ও আমিরাতের মতো অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স-বিবিসি-আল জাজিরা
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব