আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লেবাননের রাজধানী বৈরুর দক্ষিণ উপশহরে অবস্থিত একটি ভবনে সোমবার হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই ভবনটি হিজবুল্লাহ–সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান আল-কারদ আল-হাসানের একটি শাখা ছিল বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা জোরদারের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু করে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে উত্তেজনা আবার বাড়তে থাকে। এরপর থেকে ইসরায়েল লেবাননের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক হামলা চালিয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৮৩ জন শিশু রয়েছে এবং হাজারো মানুষ আহত হয়েছে।
আল-কার্দ আল-হাসান কী?
আল-কারদ আল-হাসান লেবাননের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোক্রেডিট প্রদান করে। এটি প্রচলিত ব্যাংকের মতো সুদ বা ব্যাংকিং ফি নেয় না। মানুষ এখানে সঞ্চয় রাখতে পারে বা সোনা জামানত রেখে ঋণ নিতে পারে।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেও লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ এর সেবা ব্যবহার করে।
২০১৯ সালে লেবাননের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ধসে পড়ার পর প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তখন অনেক মানুষ ব্যাংক থেকে নিজেদের টাকা তুলতে না পারায় বিকল্প হিসেবে আল-কার্দ আল-হাসানের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে।তবে প্রতিষ্ঠানটি লেবাননের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ডু লিবানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের অংশও নয়।
কেন এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?
ইসরায়েল বলছে, তাদের লক্ষ্য হিজবুল্লাহর সামরিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালে আল-কার্দ আল-হাসানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অভিযোগ ছিল, হিজবুল্লাহ তাদের আর্থিক কার্যক্রম আড়াল করতে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য এই প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। ২০২১ সালে ওই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয় এবং চলতি বছর আবার তা জোরদার করা হয়েছে।
এটি প্রথমবার নয় যে আল-কার্দ আল-হাসানের শাখা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ২০২৪ সালে লেবাননে উত্তেজনা বাড়ার সময়ও দক্ষিণ লেবানন, বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর এবং বেকা উপত্যকায় অবস্থিত বহু শাখায় হামলা চালানো হয়েছিল।মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তখন এসব হামলাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে।
হামলার প্রভাব কী হতে পারে?
বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলার ফলে হিজবুল্লাহর আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ অধিকাংশ শাখা মূলত সেবা প্রদানকারী অফিস, যেখানে বড় অঙ্কের অর্থ বা সম্পদ থাকে না।
তবে এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ওপর। অনেক লেবানিজ নাগরিক তাদের সোনা বা মূল্যবান জিনিসপত্র আল-কার্দ আল-হাসানের কাছে জমা রাখেন, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও যারা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে।
লেবাননের ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটে দেশটির মুদ্রার মূল্য ৯০ শতাংশের বেশি কমে যায় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়ে। বর্তমানে নতুন করে চলমান সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি