| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানি হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর কী?

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১০, ২০২৬ ইং | ২২:০০:২০:অপরাহ্ন  |  ৩৬৮৯২৭ বার পঠিত
ইরানি হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর কী?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি, আলজাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধর মধ্যে ইরানের হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি পাঠিয়েছে।ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা ড্রোন ইন্টারসেপ্টর এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল জর্ডানে পাঠিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার একটি ইউক্রেনীয় দল জর্ডানে গেছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা থাকা মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ইরানি হামলা প্রতিহত করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তবে এসব ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় তুলনামূলক সস্তা প্রযুক্তির সন্ধান করছে ওয়াশিংটন।

কেন ইউক্রেনের ড্রোন প্রয়োজন?

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে বিভিন্ন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, যেমন,প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা,THAAD ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা,এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS)

এসব ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ব্যাপক হামলার ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহার অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে এবং মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অন্যদিকে ইরান কম খরচে তৈরি করা নিজস্ব শাহেদ ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে এবং হাজার হাজার ড্রোন মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব ড্রোন আগেও রাশিয়াকে সরবরাহ করা হয়েছিল, যা ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার কারণে ইউক্রেন এখন সস্তা কিন্তু কার্যকর ড্রোন ইন্টারসেপ্টর তৈরি করে ব্যাপক উৎপাদন করছে।

ইউক্রেনের ড্রোন ইন্টারসেপ্টর কীভাবে কাজ করে?

রাশিয়ার ড্রোন হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন হাজার হাজার স্বল্পমূল্যের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরি করেছে। এগুলো মূলত আক্রমণকারী ড্রোনকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করার জন্য তৈরি।

এসব ড্রোন সাধারণত অপারেটররা মনিটর বা ফার্স্ট-পার্সন ভিউ (FPV) গগলস ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রতিটি ড্রোনের দাম আনুমানিক ১ হাজার থেকে ২ হাজার ডলার,যা উন্নত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অত্যন্ত কম।

বর্তমানে ইউক্রেনের কারখানাগুলো প্রতি মাসে হাজার হাজার এমন ড্রোন তৈরি করছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো মূলত ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে পারে না। এছাড়া অপারেশনের সময় প্রশিক্ষিত পাইলটকে লক্ষ্যস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করতে হয়, যদিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে।

ইউক্রেনে তৈরি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ইন্টারসেপ্টর


ইউক্রেনে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারসেপ্টর ড্রোন তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—

স্টিং (Sting)ইউক্রেনের স্টার্টআপ Wild Hornets–এর তৈরি এই কোয়াডকপ্টার আকারে বুলেটের মতো এবং গতি ঘণ্টায় ৩১৫ থেকে ৩৪৩ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এটি তাপচিত্র ক্যামেরা ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে এবং লক্ষ্য না পেলে ঘাঁটিতে ফিরে আসে।

বুলেট (Bullet): ইউক্রেনীয় অস্ত্র নির্মাতা General Cherry–এর তৈরি এই ড্রোনে জেট ইঞ্জিন ও চারটি রোটর রয়েছে। এটি ৩ডি প্রিন্ট প্রযুক্তিতে তৈরি করা যায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহায়তায় লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে।

পি১-সান (P1-Sun)Skyfall–এর তৈরি এই ড্রোনও ৩ডি প্রিন্ট প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে।

অক্টোপাস ১০০ (Octopus 100): ইউক্রেনে নকশা করা হলেও এটি গণহারে উৎপাদন করা হয় United Kingdom–এ।

ওডিন উইন-হিট (ODIN Win_Hit): ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ODIN–এর তৈরি এই ড্রোন স্বল্প সময়ের উচ্চ তীব্রতার অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার এবং এটি প্রায় ৫ হাজার মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে।

ইরানের শাহেদ ড্রোন কীভাবে কাজ করে?

ইরানের তৈরি Shahed 136 drone একটি “লোইটারিং মিউনিশন” বা আত্মঘাতী ড্রোন। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। প্রায় ৩.৫ মিটার লম্বা এই ড্রোনের দাম আনুমানিক ২০ হাজার থেকে ৩৩ হাজার ডলার। জিপিএস নির্দেশিত এই ড্রোনে বিস্ফোরক বহন করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফোরণ ঘটে।রাশিয়া ইতোমধ্যে এই ড্রোনের নকশায় কিছু পরিবর্তন এনে নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করে ব্যাপক উৎপাদন শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে?

ইরানি হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো কয়েকটি উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানি Lockheed Martin নির্মিত এই ব্যবস্থা বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে পারে। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার।

থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: এটিও লকহিড মার্টিনের তৈরি। এটি উচ্চ উচ্চতায় স্বল্প, মধ্য ও মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সক্ষম। একটি থাড ব্যাটারি তৈরি করতে প্রায় ১ থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়।

অ্যাওয়াক্স (AWACS) বিমান: এগুলো আকাশে ভাসমান রাডার ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে এবং প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বা দূরপাল্লার লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক সস্তা ইউক্রেনীয় ড্রোন ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ড্রোন হামলা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এখন এই প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪