আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ইরান তাদের অস্ত্রাগারে নতুন প্রযুক্তির ড্রোন যুক্ত করেছে, যা বিশেষত কম শব্দ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হামলার জন্য পরিকল্পিত। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, তেহরানের ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ‘শাহেদ-১০১’-এর এই উন্নত সংস্করণটি আগের তুলনায় অনেক বেশি বিধ্বংসী এবং শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা প্রকাশ করেছেন ড্রোনটির সাম্প্রতিক কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের চিত্র। দেখা গেছে, ড্রোনটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে প্রথাগত রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহজে এটি শনাক্ত করতে না পারে। আগের সংস্করণগুলোর পেছনের দিকে গ্যাসোলিন ইঞ্জিন থাকায় ওড়ার সময় একটি নির্দিষ্ট শব্দ তৈরি হতো, যা রাডার ও সেনাদের সহজেই শনাক্ত করার সুযোগ দিত। কিন্তু নতুন সংস্করণে প্রপেলারটি সামনের দিকে স্থাপন করা হয়েছে এবং শক্তিশালী বৈদ্যুতিক মোটর দ্বারা চালিত।
এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে ড্রোনটির শব্দ প্রায় নেই এবং বৈদ্যুতিক মোটরের কারণে তাপ নির্গমনও নগণ্য। ফলে আধুনিক রাডার এবং ইনফ্রারেড সিস্টেমগুলোর পক্ষে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। সমরবিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোনটি নিঃশব্দে লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে সক্ষম।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো, নতুন শাহেদ-১০১ ড্রোনে একটি রকেট বুস্টার যুক্ত করা হয়েছে, যা উৎক্ষেপণের মুহূর্তে ড্রোনটিকে অভাবনীয় গতি প্রদান করে। নির্দিষ্ট উচ্চতা ও গতি অর্জনের পর বুস্টারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এটি ‘লোইটারিং মিশন’-ক্ষমতাসম্পন্ন, অর্থাৎ দীর্ঘ সময় আকাশে ওড়ে লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকসহ আছড়ে পড়ে।
সমরবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে কম খরচে দীর্ঘ পাল্লার কার্যকর আক্রমণের ক্ষেত্রে ইরান ড্রোনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, এবং এই নতুন সংস্করণ সেই নীতির প্রকাশ। আকারে ছোট এবং শব্দহীন হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের শ্রবণসীমার বাইরে থেকে আকস্মিক হামলা চালাতে সক্ষম।
নতুন শাহেদ-১০১ ড্রোনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে পশ্চিমা সামরিক অবস্থানগুলোর জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের নিঃশব্দ ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ড্রোনের উপস্থিতি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক যুদ্ধের কৌশলকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য করবে।
ড্রোনটির এই ক্ষমতা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তুই নয়, বেসামরিক এলাকায়ও হঠাৎ হামলার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে নিরাপত্তা সতর্কতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।