আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ আজ ১২তম দিনে প্রবেশ করেছে। ইরান জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলায় দেশটির ১,৩০০-এর বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৯,৯০০-এর বেশি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে আকাশপথে ও সামুদ্রিক হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দর এবং আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু হয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয়। তেহরান জানিয়েছে, বিস্তীর্ণ বিস্ফোরণে বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনও মৃতদেহ ও জীবিত মানুষ খুঁজছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) এদিন তাদের ৩৭তম হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সুপার-হেভি “খোরমশাহর” ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের টেল আভিভ, হাইফা ও ওয়েস্ট জেরুসালেম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন জানিয়েছে, চলমান অভিযানে প্রায় ১৪০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ মঙ্গলবার বলেন, “আজ (মঙ্গলবার) সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন” এবং একাধিক এলাকায় বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে।
সৌদি আরব: ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।
কাতার: ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা হয়েছে; দেশজুড়ে “উচ্চ সতর্কতা” ঘোষণা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ২৬টি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
বাহরাইন ও কুয়েত: ধ্বনি এলার্ট ও আংশিক হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সমুদ্রযান: দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু হয়,একটি দুবাইয়ের কাছে, অন্যটি হর্মুজ প্রণালীতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করেছে, তেলের স্থাপনায় আগুনের ধোঁয়া ও বৃষ্টির মিশ্রণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে “কালো বৃষ্টি” হিসেবে পরিচিত এই দূষিত বৃষ্টি তেহরান ও আশেপাশের এলাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কড়া হয়েছে। পুলিশ প্রধান আহমদ-রেজা রাদান বলেছেন, শত্রু সমর্থকদের আর নাগরিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা হবে না, বরং তাদের “শত্রু” হিসেবে গণ্য করা হবে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ খুলাইফি বলেন, “ইরানের হামলা কোনো পক্ষের উপকারে আসে না। এখনই আলোচনা শুরু করা জরুরি।”
চলমান সংঘাতের কারণে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষতি, মানুষিক আতঙ্ক এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চাপ দিচ্ছে, কিন্তু সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত আছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি