| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অত্যন্ত বিরল ‘গোল্ডেন ব্লাড’, বিশ্বে আছে মাত্র ৪৩ জনের শরীরে

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ইং | ১৯:২৫:৪৮:অপরাহ্ন  |  ১২৭০৫ বার পঠিত
অত্যন্ত বিরল ‘গোল্ডেন ব্লাড’, বিশ্বে আছে মাত্র ৪৩ জনের শরীরে

বিজ্ঞান ডেস্ক: রক্তের গ্রুপ বলতে আমরা সাধারণত চারটি ধরনই জানি— ‘এ’, ‘বি’ ‘ও’ এবং ‘এবি’। এরপর আসে আরএইচ ফ্যাক্টরের বিষয়। অর্থাৎ একই রক্তের গ্রুপে পজিটিভ ও নেগেটিভ ভাগ থাকে। যেমন: এ (+) বা এ (-) । তবে বাস্তবে বিষয়টি একটু ভিন্ন। এই আট ধরনের বাইরে আরও একটি বিরল রক্তের গ্রুপ রয়েছে। যার নাম ‘গোল্ডেন ব্লাড’ যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘Rh null’ নামে পরিচিত।

তবে অবাক করার বিষয় হলো বিশ্বে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৪৩ জন মানুষের শরীরে এই বিশেষ রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তবে মজার ব্যাপার হলো অনেকে নাম শোনে মনে করেন এই রক্তের রং গোল্ডেন বা সোনালি। তবে আসলে তা নয়। এই রক্তের রঙও লাল।

সাধারণত রক্ত পজিটিভ নাকি নেগেটিভ হবে, তা নির্ভর করে তার আরএইচ প্রোটিনের ওপর। এই প্রোটিন থাকলে রক্ত পজিটিভ। না থাকলে নেগেটিভ। ১৯৬০ সালে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর শরীরে এমন রক্তের খোঁজ পাওয়া যায়, যেটির আরএইচ প্রোটিন এমন, সেটিকে পজিটিভ বা নেগেটিভ, কোনো দিকেই ফেলা যাবে না। চিকিৎসকরা এই রক্তের নাম দেন ‘সোনালি রক্ত’। এ রক্তকে আরএইচ-নাল রক্তও বলা হয়।

তবে অন্য রক্তের গ্রুপ থেকে এটি ভিন্ন কেন? চলুন জেনে নেয়া যাক—


কী এই ‘গোল্ডেন ব্লাড’?

গোল্ডেন ব্লাড হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বিরল রক্তের ধরন। এটি একটি অত্যন্ত বিরল জেনেটিক পরিবর্তনের ফলে তৈরি হয়। রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয় মূলত এবিও (ABO) এবং আরএইচ (Rh) সিস্টেমের মাধ্যমে। ল্যাব পরীক্ষায় লোহিত রক্তকণিকার ওপর থাকা এ ও বি অ্যান্টিজেন খোঁজা হয়। অ্যান্টিজেন হলো এমন উপাদান, যা শরীরের জন্য অপরিচিত হলে ইমিউন সিস্টেম তা আক্রমণ করে।

এছাড়া রক্তের আরএইচ ফ্যাক্টরও পরীক্ষা করা হয়। বিশেষ করে আরএইচডি (RhD) নামের একটি অ্যান্টিজেন দেখা হয়। এটি থাকলে রক্ত পজিটিভ, না থাকলে নেগেটিভ ধরা হয়।


অন্য গ্রুপ থেকে কেনো আলাদা এই ব্লাড?

আরএইচডি (RhD) একমাত্র অ্যান্টিজেন নয়— আরএইচ (Rh) সিস্টেমে ৫০টিরও বেশি অ্যান্টিজেন রয়েছে। কিন্তু যাদের শরীরে এই অ্যান্টিজেনগুলোর একটিও নেই, তাদের রক্তই ‘Rh null’ বা ‘গোল্ডেন ব্লাড’।


কাদের শরীরে থাকে এ রক্ত

এটি মূলত জিনগত কারণে হয়ে থাকে। তাই এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে যেতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রে তা হয় না। অনেক সময় কয়েক প্রজন্ম পর হঠাৎ করে কারও শরীরে এটি দেখা দিতে পারে।


কেন এটিকে সবচেয়ে দামি রক্ত বলা হয়

এই রক্তকে সবচেয়ে দামি বা ‘সোনালি রক্ত’ বলা হয়। কারণ এই রক্তের অধিকারীরা পৃথিবীর যেকোনো মানুষের শরীরে রক্ত দিতে পারেন। এটি কিছু বিরল রোগের চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যায়। তাই একে ‘সোনালি রক্ত’ বলা হয়।

‘গোল্ডেন ব্লাড’ মানবদেহের এক বিস্ময়কর ও অত্যন্ত বিরল বৈশিষ্ট্য। অধিকাংশ মানুষের জীবনে এর দেখা না মিললেও, এই রক্তের অস্তিত্ব আমাদের শরীরের জটিলতা ও বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪