রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম প্রধান এবং প্রতিরোধযোগ্য কারণ হিসেবে বিবেচিত। নিয়মিত ধূমপানের ফলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় এবং ধীরে ধীরে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তবে আশার কথা হলো, ধূমপান ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হৃৎপিণ্ড সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের ক্ষতি শুধু অতিরিক্ত সেবনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—অল্প পরিমাণ সিগারেটও হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ধূমপান কীভাবে হার্টের ক্ষতি করে
ধমনীর ভেতরের আস্তরণ নষ্ট করে
ধূমপানের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ রক্তনালীর ভেতরের স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে কোলেস্টেরল জমে ধমনী সরু হয়ে যায় এবং রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়
নিকোটিন রক্তকে ঘন করে এবং প্লেটলেটকে আঠালো করে তোলে। ফলে হঠাৎ করেই রক্ত জমাট বেঁধে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করে
কার্বন মনোক্সাইড রক্তে অক্সিজেনের জায়গা দখল করে নেয়। ফলে হৃৎপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদপেশীকে দুর্বল করে দেয়।
রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বাড়ায়
ধূমপানের ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হয়। এতে হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে
ধূমপানের কারণে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, যা ধমনীর ভেতরে প্লাক জমাকে ত্বরান্বিত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে
ধূমপান ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। এতে ধমনীর ভেতরে বিপজ্জনক প্লাক তৈরি হয়।
হৃদপেশী দুর্বল করে দেয়
দীর্ঘদিন ধূমপান করলে হৃদপেশী দুর্বল হয়ে যায়, এমনকি হৃদযন্ত্র বড় হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ত্যাগ করাই হৃদরোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ধূমপান বন্ধ করলে ধীরে ধীরে রক্তচাপ, রক্তপ্রবাহ এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সব মিলিয়ে, প্রতিটি সিগারেটই হৃদযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুস্থ থাকতে এখনই ধূমপান ত্যাগের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম