আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং-এর সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়েছে ইসরায়েল।
প্রেসিডেন্ট লি শুক্রবার এক পোস্টে বলেন, তিনি যাচাই করতে চান ভিডিওটি সত্য কিনা এবং সত্য হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাবাতিয়া এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা এক ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ছাদ থেকে ফেলে দিচ্ছে।
ভিডিওটি কাবাতিয়ায় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার দৃশ্য বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা। ওই ঘটনায় অন্তত তিনটি মৃতদেহ ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দেয়।
এই ঘটনায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্ট লির সমালোচনা করে বলেছে, তিনি “২০২৪ সালের পুরোনো ঘটনা তুলে এনে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন” এবং এসব তথ্যকে “ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা” বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে জানায়, প্রেসিডেন্টের মন্তব্য কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নয়, বরং “সার্বজনীন মানবাধিকার রক্ষার আহ্বান”।
তবে সমালোচনার জবাবে প্রেসিডেন্ট লি আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনাকে ইসরায়েল যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না, যা “দুঃখজনক”।
তিনি আরও বলেন, আমি যখন কষ্টে থাকি, অন্যরাও সেই কষ্ট অনুভব করে, যা মানবিক সংবেদনশীলতার বার্তা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বড় একটি অংশ তদন্ত শেষে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ছাড়াই বন্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে বৈশ্বিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি