আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা উপত্যকার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর পৃথক হামলায় অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে গাজা সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি পুলিশ পোস্টের কাছে ড্রোন হামলায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে “ব্লক ৯” এলাকায় থাকা বেসামরিক একটি দল লক্ষ্যবস্তু হয় এবং সেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আল-আকসা হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি মরদেহ এবং সাতজন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি নিকটবর্তী আল-আওদা হাসপাতাল আরও এক নিহত ও দুই আহতকে গ্রহণ করে।
অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহেইলা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স।
এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি ট্যাংক ও আর্টিলারি গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চলমান তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা থামেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গাজায় “নিরবচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ডের ধারা” আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ইসরায়েলের দায়মুক্তির প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনে গাজার ঘরবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র, রাস্তাঘাট এমনকি চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশেও হামলায় সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছে।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি অভিযান ও বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি