ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও ইরান ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। যদিও ইরান এখনো এই সম্ভাব্য আলোচনায় তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আলোচনার সঙ্গে জড়িত দুটি পাকিস্তানি সূত্রে বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল আগামীকাল মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। প্রথম দফার আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের সংসদ স্পিকার বাঘের কালিবাফের নেতৃত্বে সেই একই প্রতিনিধিদল এবারও আসছে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও রয়েছেন।
অপরদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধিদল- যেখানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারও থাকবেন, সোমবার গভীর রাতে বা মঙ্গলবার ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। ভ্যান্স আলাদা বিমানেও আসতে পারেন বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।
তবে মার্কিন প্রতিনিধিদলের আগমনসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
এদিকে একাধিক পাকিস্তানি সূত্র আনাদোলুকে জানিয়েছে, গতকাল রোববার ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে অন্তত দুটি মার্কিন বিমান। এসব বিমানে অগ্রিম প্রতিনিধিদল ও নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে পিটিভি জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের বিলাশবহুল সেরেনা হোটেল ও এর পাশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল এই হোটেলেই প্রথম দফায় শান্তি আলোচনা হয়েছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদিও ওই আলোচনা সফল হয়নি।
এছাড়াও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি আসন্ন আলোচনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে সোমবার ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস সফর করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসলামাবাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিও নিরাপত্তা কড়াকড়ির আওতায় রয়েছে। দুই শহরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং আসন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে ইরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
সোমবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ তাদের বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না এবং এই অসামঞ্জস্যতা পুরো প্রক্রিয়াটির প্রতি ইরানের অবিশ্বাসকে আরও গভীর করে তুলছে। ইরান তার জাতীয় স্বার্থ সতর্কভাবে বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
বাঘাই বলেন, ‘এই মুহূর্তে...পরবর্তী দফায় আলোচনায় বসার পরিকল্পনা আমাদের নেই এবং এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হয়নি।’
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে মুখপাত্র বলেন, যুদ্ধবিরতির একেবারে শুরু থেকেই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ‘অসৎ উদ্দেশ্য ও ক্রমাগত অভিযোগের’ সম্মুখীন হয়েছে তেহরান।
বাঘাই আরও বলেন, ‘একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পরেও ইরান হরমুজ প্রণালিতে রোববার রাতে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং আগ্রাসী কার্যকলাপ।’
ওয়াশিংটনের আলোচনা পদ্ধতি এবং আরও হামলার সম্ভাবনার বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘ইরান গত বছরের অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করতে পারে না। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) দুইবার কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব ও সম্পদের ওপর হামলা চালিয়েছে’। সূত্র: আনাদোলু
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব