মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দীতে চোর সন্দেহে আসাদুল আরিফ নামের এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী তাম্মি বাদী হয়ে গাংনী থানায় অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা (মামলা নং-৮) দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে বামন্দী বাসস্ট্যান্ডের ‘খোকন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটলে আসাদুল আরিফকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়রা বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ক্যাম্পের দূরত্ব খুব কম হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নেয়। এর মধ্যে উত্তেজিত জনতা আরিফকে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গাংনী থানা পুলিশ তার স্ত্রী তাম্মিকে খবর দেয়। পরে তিনি থানায় এসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
বামন্দী বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল বলেন, “খবর দেওয়ার পরও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। সময়মতো পুলিশ এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।”
দোকান মালিক তুষারও দাবি করেন, পুলিশকে খবর দেওয়ার পরও তারা দ্রুত আসেনি। স্থানীয়দের মতে, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এ ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
এ বিষয়ে বামন্দী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য তিনি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। পরে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) আল মামুন জানান, নিহতের স্ত্রীর এজাহারের ভিত্তিতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন