লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের বশিকপুর ইউনিয়নকে নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত না করে সদর উপজেলার সঙ্গেই স্থায়ীভাবে রাখার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বশিকপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
একই দাবিতে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ আরও ১০টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ‘জামাই-বউয়ের দাবি একটাই, সদরে আছি, সদরেই থাকতে চাই’, ‘নিজের ঘর ছেড়ে পরের ঘরে যাবো না’, ‘সদর উপজেলাতেই থাকবো’—এমন বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন সদর (পশ্চিম) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি মমিনুল হক, বশিকপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের ইউনিয়ন আমির মাইন উদ্দিন, সাংবাদিক এস এস আওলাদ হোসেন, ব্যবসায়ী মোশতাক আহমেদ সোহাগ, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. মোস্তফা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহবার হোসেন জনীসহ অনেকে।
বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা লক্ষ্মীপুর সদরে ছিলাম, সদর উপজেলাতেই থাকতে চাই। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের একটি বশিকপুর। লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সঙ্গে চন্দ্রগঞ্জের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এজন্য বশিকপুরকে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে আমরা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবো। আমরা সদরেই থাকতে চাই।”
বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান খোকন বলেন, “চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা হোক, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বশিকপুরকে সদর উপজেলায় রাখতেই হবে। এখানকার ৯৯ শতাংশ মানুষ সদর উপজেলাতেই থাকতে চায়। সদরে যেতে আমাদের ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়, আর চন্দ্রগঞ্জে যেতে ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে। এটি আমরা কখনো মেনে নেবো না।”
প্রসঙ্গত, সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে বশিকপুরসহ ৯টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে গত ১৯ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে ১ জুন সদর উপজেলা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়নগুলোর নম্বর পুনর্নির্ধারণ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন