ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান।
সোমবার (৮ জুন) সকালে আল-খারজ বিমানঘাঁটিকে ঘিরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সতর্কতা জারির অল্প সময়ের মধ্যেই ঘাঁটির আশপাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে পুরো এলাকায় চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয় এবং সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, আল-খারজ অঞ্চলে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি কেটে গেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে কী ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, কিংবা কী কারণে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল—সেই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ফলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটির পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও তেহরান দ্রুত তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আইআরআইবিকে দেওয়া এক বক্তব্যে দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আল-খারজ বিমানঘাঁটিতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হামলা চালানো হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, এ ঘটনায় ইরানকে জড়ানোর চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং তেহরান এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদির এই সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইরান, সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত সৌদি কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণের কারণ কিংবা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম