শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দালালচক্র, অনিয়ম ও বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. তাহেরাতুল আশরাফী।
গত ৫ মে সকালে এক রোগীর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।
ডা. তাহেরাতুল আশরাফী বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, সব জায়গাতেই দুর্নীতি রয়েছে এবং এর একটি নির্দিষ্ট ‘সিস্টেম’ রয়েছে। তবে শেরপুর জেলা হাসপাতালে দালাল ও নানা অনিয়মের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে, তা তিনি জানেন না।
তিনি আরও বলেন, “এই হাসপাতালের উন্নয়ন করতে গেলে আরও ২০ বছর লাগবে। এখানে দেয়ালে দেয়ালে দালাল। সার্টিফিকেট সেকশনটিও একটি সিন্ডিকেটের মধ্যে পড়ে গেছে।”
আরএমওর দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আরএমওর বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ থাকায় সরাসরি রোগী দেখার সুযোগ সীমিত। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরাই মূলত রোগী দেখেন এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রদান করেন।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালের আশপাশে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে ওঠার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার দাবি, সরকারি হাসপাতালের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক স্থাপনের ক্ষেত্রে নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি তদারকি করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিয়া বলেন, ডা. তাহেরাতুল আশরাফী একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি গাইনি ও অবসটেট্রিক্স বিষয়ে এফসিপিএস ও ডিজিও ডিগ্রিধারী। যোগদানের পর থেকেই তিনি বদলির জন্য আবেদন করে আসছেন।
তত্ত্বাবধায়ক বলেন, তিনি অত্যন্ত ভালো মানের একজন চিকিৎসক। এমন একজন চিকিৎসক যদি শুরু থেকেই অন্যত্র বদলি হতে চান, তাহলে আমার করার খুব বেশি কিছু থাকে না।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু