| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২২, ২০২৬ ইং | ১৩:৫৩:৫৬:অপরাহ্ন  |  ৯৭৭ বার পঠিত
স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড

স্পোর্টস ডেস্ক: মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই অস্ট্রেলিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দিন শেষে সেই স্বস্তি পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেনি স্বাগতিকরা। বল হাতে দুর্দান্ত জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন তিনি। তার ছয় উইকেটের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াও বড় লিড নিতে পারেনি। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে স্বাগতিকরা, লিড দাঁড়িয়েছে ১০১ রানে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরুতেই আগুন ঝরিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক। মাত্র ২২ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় ত্বরান্বিত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট করে দেন স্টার্ক।

তবে স্টার্কের সেই দাপটের জবাব যেন বল হাতেই দিয়ে দিলেন শরিফুল ইসলাম। ইনজুরি কাটিয়ে ইবাদত হোসেনের জায়গায় একাদশে ফিরে প্রথম ম্যাচেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছেন এই বাঁহাতি পেসার। বাংলাদেশের হয়ে ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করার পর বল হাতেও ছয় উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাকাই টেস্টে নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক স্পর্শ করেন শরিফুল। নিজের নবম ওভারে মাত্র তিন বলের ব্যবধানে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরের ওভারেই মিচেল স্টার্ককে সাজঘরের পথ দেখান এই পেসার।

অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিন উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে রীতিমতো তাণ্ডব চালান শরিফুল। তার দুর্দান্ত স্পেলে ১৪৮ রানেই আট উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।

দিনের দ্বিতীয় সেশনে দুই দলের মোট সাতটি উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করার পর অস্ট্রেলিয়া চা-বিরতির আগে তিন উইকেটে ৫০ রান সংগ্রহ করে। শরিফুলের জোড়া আঘাতে মাত্র ৪১ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার তিন উইকেট পড়ে যায়।

তবে এরপর স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের জুটি বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে। দুজনের পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত এই জুটিও ভেঙে দেন শরিফুল।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলাররা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার ইঙ্গিত দেন। তৃতীয় ওভারে ম্যাট রেনশকে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাসকিন আহমেদ। জেক ওয়েদারাল্ডের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া রেনশ মাত্র ৮ রান করে ফেরেন। ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপর অষ্টম ওভারে আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শরিফুল। ওভারের দ্বিতীয় বলেই অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্র্যাভিস হেডকে বোল্ড করেন তিনি। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হওয়া হেড করেন ২২ রান।

মাত্র চার বল পর আবারও আঘাত হানেন শরিফুল। এবার তার শিকার মার্নাস লাবুশেন। মাত্র ৯ বলে ৪ রান করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন লাবুশেন। ফলে ৪১ রানেই অস্ট্রেলিয়ার তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় বাংলাদেশ।

তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরু করেন। দুজনের ৭৭ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে আবারও চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই জুটি ভাঙার দায়িত্ব নেন শরিফুল।

স্মিথকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। আম্পায়ার প্রথমে বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেন। স্মিথ রিভিউ নিলে শেষ পর্যন্ত আম্পায়ার্স কলে সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ৬টি চারের সাহায্যে ৭৪ বলে ৪২ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

এরপর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি গড়েন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে তাদের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ২৭ রান যোগ হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজের বলে হাসান মাহমুদের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ক্যারি। তার ব্যাট থেকে আসে ৫ রান।

ক্যারির বিদায়ের পর যেন আবারও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামে। মাত্র তিন রানের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

এরপর নিজের ওভারে বেউ ওয়েবস্টারকে গোল্ডেন ডাকে ফেরান শরিফুল। এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত রিভিউ করেও বদলাতে পারেননি ওয়েবস্টার। দুই বল পর প্যাট কামিন্সকেও ফিরিয়ে দেন তিনি। লিটনের ক্যাচে কামিন্স সাজঘরে ফেরেন। নতুন ব্যাটার কামিন্স শেষ পর্যন্ত ১ রান করে শরিফুলের বলে বোল্ড হন।

এরপর বাংলাদেশের ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়া মিচেল স্টার্ককেও নিজের ষষ্ঠ শিকার বানান শরিফুল। তার অসাধারণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ১৪৮ রানে আট উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।

তবে ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়ন শেষ পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৪২ বলে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে আসে ১৭ রান। দিন শেষে গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত রয়েছেন, আর লায়নের সংগ্রহ ১০ রান।

শরিফুল ইসলাম ১১ ওভার বল করে ৩৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস নামানো মিচেল স্টার্কও ছয় উইকেট শিকার করেছেন।

বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া ১৬৫ রান তুলেছে। ফলে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১০১ রান। তবে শরিফুলের আগুনে বোলিংয়ের কারণে বড় লিড নেওয়ার সুযোগ হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪