জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) মন্দির স্থাপনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলসহ অন্যান্য ক্রিয়াশীল সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্ত্বরে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির স্থাপন করা হোক অসম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এ সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কল্যাণ চন্দ্র রায় বলেন, 'বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগের অধিকার রাখে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা আসন্ন কালীপূজা পালন করতে চাইলেও প্রশাসন এখনো অনুমতি দেয়নি, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো মন্দির বা উপাসনালয় না থাকা ধর্মীয় বৈচিত্র্যের অভাব নির্দেশ করে। তাই আমাদের দাবি, কালীপূজার অনুমতি দেওয়া হোক এবং সনাতন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হোক। সকল ধর্মের শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সমানভাবে রক্ষা করা প্রয়োজন।'
এ সময় জবি ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন বলেন, 'আমরা যে দেশে বাস করি এটি একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এদেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বিভেদ করে না। সব মানুষ ধর্ম পালনের অধিকার রাখে।'
বাগছাসের সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, 'আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স ২০ বছর। আজ আমাদের এখানে দাঁড়ানোর কথা না। বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু-মুসলিম সকলেই আছে। আমাদের যেমন অধিকার আছে হিন্দু ভাইদেরও অধিকার আছে। আমি ও আমার সংগঠন তাদের দাবির সাথে আছি।'
এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, 'ধর্ম যার যার দেশ সবার। আমরা দেখেছি বিগত ১৭ বছর বিশেষ একটি মহল, একটি গোষ্ঠী এক কেন্দ্রিক রাষ্ট্র চালিয়েছিল। ধর্মীয়,রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক স্বাধীনতা ছিল না। হাসিনার পতনের জন্য শিক্ষার্থীরা, দেশের সর্বস্তরের মানুষ পথে নেমে এসেছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমরা দেখতে পাচ্ছি এক ফ্যাসিবাদের পতনের পর আর এক ফ্যাসিবাদের আবির্ভাব ঘটছে। জবি শিক্ষকদের মধ্য থেকে ভিসি নিয়োগের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু-মুসলিম সকল শিক্ষার্থী এক হয়ে আন্দোলন করে। জবিয়ানদের অধিকার আদায়ের জন্য পূর্বের মতো ভবিষ্যতেও হিন্দু মুসলিম সকল শিক্ষার্থী এক হয়ে কাজ করবে।'
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা