ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ‘মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক’ উল্লেখ করে তার স্ত্রী এবং ছেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারিমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারিমন্ত্রী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোকেন উৎপাদন বেড়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত কলম্বিয়ায় যে পরিমাণ কোকেন উৎপাদিত হচ্ছে, তা গত কয়েক দশকের চেয়েও বেশি। এই বিপুল পরিমাণ কোকেন বন্যার মতো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।
তিনি বলেন, কোকেন উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের দমন করার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট পেত্রো এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন; কিন্তু যেহেতু আমাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিকে মাদকের সর্বনাশা ছোবল থেকে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ কারণেই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির মতো কঠোর পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।
নিষেধাজ্ঞা জারির পর এক প্রতিক্রিয়ায় গুস্তাভো পেত্রো দাবি করেছেন ট্রেজারি মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে মিথ্যাচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি মন্ত্রণালয় যা বলছে, তা মিথ্যা। আমার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে কোকেনের উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং হ্রাস পেয়েছে। এই সরকারের আমলে যে পরিমাণ কোকেন জব্দ করা হয়েছে, বিশ্বের ইতিহাসে আর কোনো দেশ এত কোকেন জব্দ করেনি।
মূলত, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তার। যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও যোগ দিতে পারেননি দেশটির প্রেসিডেন্ট। তাকে ভিসা না দেওয়ার প্রধান কারণ, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের বিরুদ্ধে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করা।
রিপোর্টার্স২৪/টিআই