রিপোর্টার্স ২৪ডেস্ক: চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে মার্কিন উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, ঢাকা ও বেইজিংয়ের সহযোগিতা তৃতীয় কারও বিরুদ্ধে নয়। আর এ সহযোগিতা কারও নির্দেশনায় পরিচালিতও হবে না।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ‘বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক: এগিয়ে যাওয়ার পথ’ শিরোনামের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এই আলোচনার আয়োজন করে সাবেক রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ফরমার অ্যাম্বাসেডরস (এওএফএ)।
চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিপদ নিয়ে মার্কিন উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীন ও আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির প্রশংসা করি। এটাই বাংলাদেশের অতীতের সরকারগুলো অনুসরণ করে এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশনা ছাড়া পরিচালিত হয়েছে। চীনের অবস্থান হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীন ও নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নীতি অনুসরণকে সমর্থন করা। আপনাদের কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশনায় পরিচালিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশকে সমর্থন করি।
এতে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আলোচনায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় সঙ্গী হয়ে চীন একটি শক্তিশালী দেশ ও ভবিষ্যৎ গড়তে সহযোগিতা করতে চায়। সার্ক অকার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশ চীন পাকিস্তান ত্রিদেশীয় সুসম্পর্ক এই অঞ্চলের অগ্রগতিতে নতুন ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।
চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, আমার মতে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক জনগণের স্বার্থে। জনগণ বলতে সরকার, রাজনৈতিক দল। আর এ বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখুন। গত মার্চে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীনে গিয়েছিলেন। ভুলে যাবেন না গুরুত্বপূর্ণ সফরটি ছাড়াও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের তিনটি প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সফর হয়েছে চীনে। ওই তিনটি দলের নেতৃবৃন্দ এবং আরও কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারাও চীন সফর করেছেন। তারা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চান। এটাই চীন–বাংলাদেশ সম্পর্কের শক্তি।
তিনি বলেন, এই সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে। আমি আরও বলতে চাই আমাদের এই সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে। আমাদের এই সহযোগিতা তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নয়। তাই আমাদের এই সহযোগিতা অন্যের দ্বারা পরিচালিত হবে না। নির্বাচনের পরও বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে দুই দেশের এই সহযোগিতা আরও এগিয়ে যাবে। সহযোগিতা আরও টেকসই হবে। এই সম্পর্ক বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি