রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় চালু করার পদক্ষেপের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা বাড়াবে।
রাশিয়ার নেতা বুধবার তার নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ব্যাপক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধ চুক্তির (সিটিবিটি) কোনো স্বাক্ষরকারী দেশ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়া পারস্পরিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে।
পুতিন বলেন, এই বিষয়ে আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশেষ পরিষেবা এবং সংশ্লিষ্ট বেসামরিক সংস্থাগুলোকে এই বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করার নির্দেশ দিচ্ছি, নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক এটি বিশ্লেষণ করানো হোক এবং পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সম্ভাব্য প্রথম পদক্ষেপের উপর সমন্বিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হোক।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে মস্কো আর পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়নি। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের হতাশা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রাগারের অধিকারী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
গত মাসে মার্কিন নেতা হাঙ্গেরিতে পুতিনের সাথে একটি পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলন বাতিল করেন, তার একদিন পরে রাশিয়ার দুটি শীর্ষ তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম পদক্ষেপ।
এরপর ৩০ অক্টোবর ট্রাম্প বলেন, তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রধারী শক্তির সাথে ‘সমান ভিত্তিতে’ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মস্কোর নতুন বুরেভেসতনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করার কয়েকদিন পর আসে। বুরেভেসতনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক শক্তিচালিত ও পারমাণবিক অস্ত্র বহনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের তথ্যানুসারে, পুতিন গতকাল বুধবার মস্কোতে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা অধিবেশনে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। বৈঠকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ পুতিনকে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো রাশিয়ার জন্য সামরিক হুমকির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন, আমাদের পারমাণবিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা জরুরি।
বেলোসভ আরো বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নোভায়া জেমলিয়া ঘাঁটিতে অল্প সময়ের নোটিশেই পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো সম্ভব। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীল প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভও সতর্ক করে বলেন যে, রাশিয়া যদি ‘এখনই যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের প্রতি সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় ও সুযোগ হারিয়ে যাবে।
বৈঠকের পর, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, পুতিন অনুরোধকৃত প্রস্তাবগুলো খসড়া করার জন্য কর্মকর্তাদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেননি।
পেসকভ বলেন, এই ধরনের পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করার যুক্তিসঙ্গততা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে বুঝতে আমাদের যতটা সময় লাগে ঠিক ততটাই সময় লাগবে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে থাকা ওয়ারহেডের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিএসিএনপির অনুমান অনুসারে, মস্কোর বর্তমানে ৫ হাজার ৪৫৯টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে ১ হাজার ৬০০টি সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।
সিএসিএনপি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৫ হাজার ৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ সক্রিয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় ১৮৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩১ হাজারের বেশি সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম