| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় দেয়া কে এই বিচারক?

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ইং | ১৬:১২:১৬:অপরাহ্ন  |  ১২৫০৩৭৩ বার পঠিত
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় দেয়া কে এই বিচারক?

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের যে ঐতিহাসিক রায় ঘোষিত হয়েছে, তার নেতৃত্বে ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার। রায় ঘোষণার পর থেকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এই বিচারক—কে তিনি, কী তার যোগ্যতা ও পেশাগত পথচলা?

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য পুনঃগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক। তিনি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের হাসানপুর মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা।

তার জন্ম ১৯৬০ সালের ১৫ জানুয়ারি। তিনি ১৯৮২ সালে বিসিএস পাস করেন এবং ১৯৯৩ সালের ২০ এপ্রিল চাকরিতে যোগদান করেন। জেলা ও দায়রা জজ এর চাকরি থেকে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি অবসর গ্রহণ করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে ১৯ বছর জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাস করেন।

গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে হাইকোর্টের দুজন বিচারপতি এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজকে নিয়ে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে হত্যার বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে আইন সচিব শেখ আবু তাহের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সালের আইন নং ২১)-এর ধারা ৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।

বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে এ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় লঘুদণ্ড হিসেবে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল।

ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল। ৬ ভাগে বিভক্ত ৪৫৩ পৃষ্ঠা রায়ের সার সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েছেন বিচারক। দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। পৌনে তিনটা পর্যন্ত রায়ের সার সংক্ষিপ্ত অংশ পড়েন বিচারক। পরে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আদালত বলেছে, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। একইসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান কামাল, চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচন করেছেন, মামুনের অপরাধের সাজা সর্বোচ্চ হলেও সত্য উন্মোচন করায় তার সাজা কম হবে।

গণহত্যার দায়ে সরকারের সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম বিচারের রায়। হাসিনার মামলার রায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশনগুলোতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এছাড়া রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় বিচার কার্যক্রম দেখানো হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪